স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের লড়াকু সৈনিক রানাকে মাগুরা পৌরসভার মেয়র প্রার্থী চান নেতা-কর্মীরা

স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের লড়াকু সৈনিক রানাকে মাগুরা পৌরসভার মেয়র প্রার্থী চান নেতা-কর্মীরা

মাগুরা প্রতিনিধি:

জাতির পিতার আদর্শিক রাজনৈতিক চর্চা করে যেক’জন নেতা মাগুরায় পাহাড়সম জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম রানা আমীর ওসমান। তার আচার-ব্যবহার, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা,জনকল্যাণমূলক কর্মকান্ড ও নি:স্বার্থ মানব সেবা আজকের রাজনীতিতে সত্যিই বিরল। তিনি মাত্র ৩ দশকের রাজনৈতিক সেবায় একজন প্রকৃত জননেতার শীর্ষচুড়া স্পর্শ করেছেন। রাজনীতি ক্ষমতার বাহাদুরী বা ভোগ বিলাশী জীবন চর্চার মখমল আসন নয়, তার কাছে রাজনীতি হল; দেশ ও জনকল্যাণের চিরন্তন মানবিক যুদ্ধ। সেই যুদ্ধের ময়দানে যেমন অনিশ্চিত জীবন শংকা রয়েছে। তেমন রয়েছে আত্মতৃপ্তির প্রবাহিক রংধনু সীমান্ত। যা মানব জীবনকে সাম্যক অর্থে কালজয়ী করে রাখে। তিনি গণমানুষের মন-মননে বেঁচে থাকেন হাজার বছর। এটাই একজন রাজনৈতিকের প্রধান লক্ষ্য। এ জন্যেই তিনি রাজনীতি করেন।
রানা আমীর ওসমানকে বলা হয় রাজপথের লড়াকু সৈনিক। তিনি ভাংতে জানেন কিন্তু মচকাতে জানেন না। ছাত্র জীবন থেকেই নীতি-আদর্শে অবিচল তিনি। চাঁদাবাজী,টেন্ডারবাজী ও সন্ত্রাস নাশকতা মার্কা নষ্ট রাজনীতিকে তিনি চরম ঘৃনা করেন। যারা রাজনীতির এই নোংরা ধারার ধারক -বাহক তাদেরকে তিনি এড়িয়ে চলেন। আর এ কারণেই তিনি সর্বমহলে গ্রহনযোগ্য ও সমান জনপ্রিয়।

ফিরে দেখা অতীত :
রানা আমীর ওসমান ১৯৭৪ সালে মাগুরা জেলার ভায়না গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। তার পিতা মরহুম মো: সাখাওয়াৎ হোসেন ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা যে কোন অন্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদী কন্ঠ ছিলেন তিনি। মায়ের নাম পিয়ারি বেগম। শিক্ষাগত জীবনে বিএ পাশ করেছেন। বিবাহ করেছেন প্রায় একদশক আগে। ৮০’র দশকে তিনি বাংলাদেশ ছাত্র লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন। অতি অল্প সময়েই যোগ্য নেতৃত্ব দিয়ে জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের মন জয় করেন। ১৯৮৯ সালে তিনি মাগুরা পৌর ছাত্র লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক পদে মনোনিত হন। ১৯৯১ সালে জেলা ছাত্র লীগের সদস্যতা পান। ১৯৯২ সালে মাগুরা সরকারী কলেজ ছাত্র সংসদের সহ সমাজ সেবা সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯৪-১৯৯৮ মেয়াদে তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ জাতীয় কার্যকরী সংসদের সদস্য মনোনিত হন। ১৯৯৮-২০০৩ মেয়াদে তিনি বাংলাদেশ ছাত্র লীগ মাগুরা জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০০৩ -২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি স্বেচ্ছাসেবক লীগ মাগুরা জেলা শাখার যুগ্ম আহবায়ক ছিলেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মাগুরা জেলা শাখার ত্রান ও সমাজ সেবা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি যেসব সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে যুক্ত আছেন সেগুলো হল; যুগ্ম সাধারন সম্পাদক,মাগুরা জেলা ক্রীড়া সংস্থা, ( ৪ বার নির্বাচিত) পরিচালক,মাগুরা সমবায় ব্যাংক,( ২ বার নির্বাচিত) সহসভাপতি, কেন্দ্রিয় সমবায় সমিতি,মাগুরা, সদস্য,বাংলাদেশ এথেলেটিক ফেডারেশন । রাজনৈতিক জীবনে তিনি অনেকবার কারাবরণ করেছেন। ১৯৮৯ হতে ১৯৯০ স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে ৪ টি মামলার আসামী হয়ে কারাবরণ করেন। বিএনপি- জামায়াত সরকার বিরোধী আন্দোলনে ৯/১০ টি মামলার অসামী হয়ে কারাবরণ করেন। ২০০১ হতে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জামায়াত-বিএনপি সরকার বিরোধী আন্দোলনে অগ্রণী ভুমিকা পালন করেন। সে কারণে তিনি নিজ বাড়ীতে হামলার শিকার হন।

আগামীর অভিযাত্রা:
যে কোন রাজনৈতিক নেতারই চুড়ান্ত লক্ষ্য থাকে নিজ এলাকাকে উন্নয়ন সোপানে সম্পৃক্ত রাখা। বুকের গভীরে তিল তিল করে জমে থাকা স্বপ্নগুলোকে বাস্তবে রুপদান করা। এলাকাবাসীর জন্য অনুস্মরণীয় কিছু কাজ করে যাওয়া। মাগুরার গণ মানুষের নেতা রানা আমীর ওসমানও এমন কিছু স্বপ্ন তার বুকের গভীরে লালন করেন। তিনি বদলে দিতে চান প্রিয় শহর মাগুরাকে। একটি মডেল পৌরসভার ছবি একেছেন চোখের ক্যানভাসে। দৃষ্টি নন্দন একটি পরিকল্পিত শহর গড়ে তুলতে চান তিনি। যে শহরে থাকবে না মাদকের নীল দংশন। থাকবে না সন্ত্রাসের কালোথাবা। স্কুল -কলেজে থাকবে না কোন ইভটিজিং। থাকবে না ডেংগু মশার অত্যাচার। চোর,ডাকাত,ছিনতাইকারী মুক্ত হয়ে মানুষ নির্ভয়ে- নিরাপদে বসবাস করতে পারবে। আবর্জনামুক্ত একটি পরিছন্ন শহর সকলকে উন্নত জীবনের ঠিকানা দেবে। শহরবাসীর চিকিৎসা সেবায় আসবে আমূল পরিবর্তন। ঘুষ -দুর্নীতি ও শোষনমুক্ত একটি সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে। সড়ক গুলো আলোয় -আলোয় ভরে থাকবে। হাসি ,আনন্দের প্রণোদনা থাকবে প্রতিটি শিশুর জীবনে। এক কথায় উন্নত রাষ্ট্রের নাগরিক সেবার মত স্বাচ্ছন্দে থাকবে প্রতিটি নাগরিক। হা, সেই স্বপ্ন সফল করার সময় এগিয়ে আসছে বুঝি?
এ বছর ২০২০’র ডিসেম্বরেই শেষ হচ্ছে মাগুরা পৌরসভার নির্বাচিত পরিষদের মেয়াদ। বিধি মোতাবেক যথাসময়েই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হবে। আর এ নির্বাচনে পরিচ্ছন্ন জননেতা রানা আমীর ওসমানকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মেয়র প্রার্থী চাইছেন সকল স্তরের নেতা কর্মী ও এলাকাবাসী। এই দাবী নিয়ে তারা প্রতিদিনই ধর্ণা দিচ্ছেন রানা আমীর ওসমানের বাসভবনে। নেতা-কর্মী ও এলাকাবাসীর এই দাবী কিছুতেই উপেক্ষা করতে পারছেন না রানা আমীর ওসমান। তিনি বলেছেন, প্রানপ্রিয় নেত্রী, জাতির জনক কন্যা, প্রধানমন্ত্রী ,দেশরতœ শেখ হাসিনা যদি যোগ্য মনে করে তাকে দলীয় মনোনয়ন দেন তবে তিনি নিশ্চয় আগামী পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হবেন।

নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন:
এ প্রসংগে কথা হয় মাগুরা জেলা,সদর উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতা কর্মীদের সাথে। তারা সকলেই প্রায় একই সুরে বলেন, মাগুরা পৌর নির্বাচনে পরিচ্ছন্ন যোগ্য প্রার্থী হিসাবে রানা আমীর ওসমানের কোন বিকল্প নেই। তার ব্যবহার, রাজনীতি, আদর্শ, জনসেবা সবই অনুকরণ ও অনুস্মরণযোগ্য। তিনি মাগুরা পৌরবাসীর জন্য বিধাতার আর্শিবাদ স্বরুপ। তারা আরো বলেন, এই করোনা ক্রান্তিকালে রানা আমীর ওসমান তার ব্যাক্তিগত তহবীল থেকে পৌরবাসীকে যে পরিমাণ খাদ্য ও অর্থ সহায়তা দিয়েছেন তা অবিশ্বাস্য। তারমত আরো কিছূ নেতা থাকলে মাগুরাবাসীর মুথে হাসি আনন্দ চিরস্থায়ী হত। তারা এও মনে করেন যে, আওয়ামী লীগ থেকে যদি রানাকে মেয়র প্রার্থী দেওয়া হয় তবে তিনি ব্যাক্তি ইমেজের কারণে বিরোধী দলেরও অনেক ভোট নিজ ব্যালট বাক্সে আনতে পারবেন। অর্থ্যাৎ তাকে বিজয় অর্জনে খুব একটা কাঠখড় পোড়াতে হবে না।