মাগুরায় বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার কার স্বার্থে?

মাগুরায় বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার কার স্বার্থে?

ডেস্ক রিপোর্ট:
সদ্য মাগুরাতে হয়ে গেল পৌরসভা নির্বাচন, বিএনপির মনোনিত প্রার্থী ছিলেন ইকবাল আক্তার খান কাফুর, যার রাজনৈতিক ইতিহাস বেশ লম্বা প্রথমে তিনি মুসলিম লীগ করতেন, পরবর্তীতে জাকের পার্টি, তারপর এরশাদের লাঙ্গলের হাতল ধরলেন, কোন কিছুতেই কোন সুবিধা করতে না পেরে পরিশেষে ধানের শীষের দ্বারস্থ হলেন, সেখানেও বিধিবাম এক নির্বাচনে নিজের স্বার্থে আঘাত লেগেছিল বলে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়ে গেলেন ট্রাক মার্কায়। কথা হচ্ছে, এতবার ডিগবাজি খাওয়া একজন মানুষ কি এত সহজে বি এন পির আদর্শে বিশ্বাসী হতে পারেন? তিনি আবার ইউএসএ প্রবাসী, মাঝে মাঝে বাংলাদেশ ভ্রমনে আসেন। অনেক ক্ষেত্রে অনেক কিছুর বিনিময় নমিনেশন পাওয়া যায়, কিন্তু শহীদ জিয়ার আদর্শ কি এত সহজে ধারণ করা যায় ?

অন্যদিকে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তারা হলেন মাগুরা পৌর বিএনপির সভাপতি কিজিল খান, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুর রহিম, সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কাজী সানাউল হক তনময়, পৌর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কুতুব উদ্দিন রানা, পৌর যুবদল নেতা খান মাহবুবুর রহমান শান্তি, ও পৌর ছাত্রদল নেতা সজল খান। এই উল্লিখিত ত্যাগী নেতাগুলো দলের প্রতিটা সময় রাজপথে থেকেছেন, পুলিশের ডান্ডা বাড়ি খেয়েছেন, বিভিন্ন সময়ে কারাবন্দি হয়েছিলেন। এমনকি গত কিছুদিন আগেও অর্থাৎ পৌরসভা নির্বাচনকালীন সময়ে অনেকে জেল থেকে বের হয়েছেন।

তাদের বিরুদ্ধে মূল অপপ্রচার গুলো হচ্ছে তারা পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন, নির্বাচনের সময় ধানের শীষের এজেন্টদের বের করে দিয়েছেন, ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিএনপি কর্মীদের হুমকি দিয়েছেন। অনুসন্ধানে দেখা যায় যাদের বরাত দিয়ে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে তারা প্রত্যেকেই এমন মিথ্যা সংবাদের তীব্র নিন্দা করেছেন এবং লিখিত প্রতিবাদ জানিয়েছে। বিএনপির মাগুরা পৌরসভার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান মোঃ আহসান হাবীব কিশোর নিজেও এ ধরনের প্রকাশিত ভিত্তিহীন ও গুজব সৃষ্টিকারী সংবাদের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি আরো বলেন যাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অপপ্রচার করা হচ্ছে তারা প্রত্যেকেই একজন পরীক্ষিত সৈনিক, মৃত্যুঞ্জয়ী নেতা, একাধিকবার কারাবরণকারী ও একাধিক মামলার আসামি।

এ ব্যাপারে কুতুব উদ্দিন রানা জানান ” বিএনপির মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা একটি চক্র দলের ভিতরে বিভক্তি সৃষ্টি করার পাঁয়তারা করছে, যাতে কর্মীরা সংগঠিত হতে না পারে।”

কখনো কখনো দেখা যায় এ ধরনের সক্রিয় ও ত্যাগী বিএনপি সদস্যদের বিরুদ্ধে ফেসবুকে বিভিন্ন ভূয়া আইডি খুলে, কখনো ভুয়া হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলে, আবার কখনো ভুয়া নিউজ পোর্টালে ভিত্তিহীন খবর প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় নেতাদের কান ভারি করে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে। অথচ এসব নেতাদের অনেক সময় মিটিং মিছিলে তেমন দেখা যায় না, অঙ্গসংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেও অদৃশ কারনে কেউ আসামি হয় না।

অন্যদিকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইকবাল আক্তার খান কাফুর নির্বাচনকালীন সময়ে নিজেও কোন গণসংযোগে অংশ গ্রহণ করেননি। এমনকি তাকে দলীয় নেতাকর্মীদের একসঙ্গে ডেকে নির্বাচনকালীন সময়ের দিকনির্দেশনা দিতে দেখা যায়নি। দলের নেতাকর্মীদের দুঃসময়ে পাশে না থাকার কারণে বিএনপি নেতাকর্মীরা তাকে সে ভাবে গ্রহণ করেননি, ফলে নেতাকর্মীরা যার যার অবস্থানে থেকে দলীয় প্রতীকের পক্ষে সাধ্যমত চেষ্টা করেছেন।। অনেক নির্বাচন কেন্দ্রও ছিল বিএনপির এজেন্ট শূন্য। ফলাফল বিএনপি’র মত একটা দলের জামানত বাজেয়াপ্ত ।

এখন নিজেদের ব্যর্থতা অন্যের ঘাড়ে চাপাতে নিজ দলের নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের বিরুদ্ধে চক্রটি কার স্বার্থে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *