সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৫:৩১ অপরাহ্ন

Notice :
Welcome To Our Website...
সংবাদ শিরোনাম :
magura আ,লীগ প্রার্থী সাইফুজ্জামান শিখরের নৌকা প্রতিক গ্রহন ঐক্যফ্রন্ট ও জোটের ৬০ প্রার্থী জামায়াত-এলডিপিসহ ২০ দল ৪০ গণফোরাম ৭ জেএসডি ৫ নাগরিক ঐক্য ৫ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ৩ জাপার সঙ্গে আ.লীগের আসন জটিলতা কাটেনি মাগুরায় মুক্ত দিবসে বিজয় র‌্যালী উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকায় ভোট দিন -সাইফুজ্জামান শিখর মাগুরায় গ্রাম-পুলিশদের জন্য থানা চত্তরে বিশ্রামাগার নির্মান কোনো অপশক্তিই নৌকার গতি রোধ করতে পারবে না : আব্দুর রহমান মাশরাফি’র ভোট ক্যাম্পেইন করতে নাগরিক প্লাটফরম গঠনের উদ্যোগ এইচআইভি সম্পর্কে আপনার ভুল ধারণাগুলো শুধরে নিন যশোরে তৈরি ক্যারম বোর্ড যাচ্ছে সারা দেশে
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মাঠে, বিএনপি নীরব

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মাঠে, বিএনপি নীরব

নিউজ ডেস্ক :
রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি নির্বাচন আগামী ৩০ জুলাই। বিধি অনুযায়ী প্রচারণা শুরু না হলেও তিন সিটিতেই নানা কৌশলে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে নেতাকর্মীরা মাঠ চষে ফেলছে। অন্যদিকে বিএনপি বেশ নীরব; বিদ্রোহী প্রার্থী, কোন্দল এবং কর্মীরা মামলা-পরোয়ানা মাথায় নিয়ে থাকায় নির্জীব হয়ে রয়েছে দলটি।
রাজশাহীতে লিটনের আগাম মাঠ দখল
৩০ বছর আগে ১৯৮৮ সালে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) গঠন হওয়ার পর সব মিলিয়ে প্রায় ২১ বছর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিএনপি নেতারা। আর আওয়ামী লীগ মাত্র সাত বছরের মতো দায়িত্বে ছিল। এ সিটিতে এবারের নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা শুরু হওয়ার আগ থেকেই মাঠ দখল করে রেখেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী খায়রুজ্জামান লিটন।
অনেকটা কোণঠাসা হয়ে আছে বিএনপি
অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাসিক নির্বাচন ঘিরে প্রায় ছয় মাস ধরে প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে লিটনের পক্ষে। এই সময়ে ‘চলো বদলে দিই রাজশাহী’ স্লোগানে নগরজুড়ে ব্যাপক ব্যানার, ফেস্টুন এবং বিলবোর্ড টাঙানো হয়েছে লিটনকে মেয়র নির্বাচিত করার আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে গত মাসের শুরুর দিকে কিছু ব্যানার, ফেস্টুন নগরীতে টাঙানোর চেষ্টা করেন বিএনপির প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। কিন্তু যেখানেই তাঁর ব্যানার-ফেস্টুন লাগানো হয়, সেখানেই রাতারাতি সেগুলোর ওপর বসে লিটনের ব্যানার-ফেস্টুন। আর তফসিল ঘোষণার পর নতুন করে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ সহযোগী বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা নগর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে প্রচার-প্রচারণা নিয়ে। অন্যদিকে বুলবুলের নেতৃত্বে ছাড়া কোনো ওয়ার্ডেই নেতাকর্মীদের কোনো কর্মসূচিতে দেখা যাচ্ছে না।
বিএনপি সূত্র জানায়, তফসিল ঘোষণার পর বিএনপির উদ্যোগে বুলবুলের জন্য গত ৩০ জুন নগরীর সিটি কনভেনশন সেন্টারে দলীয় সভার আয়োজন করা হয়। কিন্তু প্রশাসন সেখানে অনুমতি না দেওয়ায় ওই সভা অনুষ্ঠিত হয় মহানগর বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে ছোট পরিসরে। এরপর গত ২ জুন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ অডিটরিয়ামে রাজশাহী বিএনপির বর্ধিতসভার আয়োজন করা হয়। কিন্তু ওই দিনই সেখানে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়। এ কারণে নগরীর মুনলাইট গার্ডেনে অনুষ্ঠিত হয় বিএনপির বর্ধিতসভা। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সভায় দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ রাজশাহীর পাঁচটি আসনের এমপিরা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে বিএনপির সভায় কেন্দ্রীয় কিংবা মহানগর ও জেলার বিএনপি নেতাদের দেখা যায়নি। রাজশাহীর সাবেক এমপিদের মধ্যে একমাত্র মিজানুর রহমান মিনু ছাড়া আর কাউকে এখনো কোনো সভায় উপস্থিত করতে পারেননি বুলবুল। মহানগর বিএনপি ও যুবদলের মধ্যে রয়েছে কোন্দল।
নগরীর কাদিরগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা সোহরাব হোসেন বলছিলেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের নীরব ভূমিকার কারণে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা একচেটিয়াভাবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। লক্ষ্মীপুর এলাকার ব্যবসায়ী বাবু বলেন, বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রাজশাহীতে এবার আওয়ামী লীগের প্রার্থীর প্রচারণা এত বেশি হচ্ছে যে বিএনপির প্রার্থীর কথা শোনাই যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে বুলবুল বলেন, দলীয় সভা করার জন্য বড় কোনো পরিসর চাইলেও অনুমতি দিচ্ছে না প্রশাসন। তাহলে কিভাবে নেতাকর্মীরা মাঠে নামবে? তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে কোনো কোন্দল নেই। কিন্তু বর্তমান সরকার খুলনা, গাজীপুরের মতো রাজশাহীতেও ভোট ডাকাতির চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে এখানে সেটি করতে চাইলে চরম প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন নেতাকর্মীরা।’ তিনি আরো বলেন, রাজশাহী সিটিকে নতুন করে বদলানোর কিছুই নেই। নতুন করে বদলানোর নামে সরকারি দলীয় মেয়র প্রার্থী পুরো শহরটাকে পোস্টার, ফেস্টুন ও ব্যানারের শহরে পরিণত করেছেন। নান্দনিক স্থান, মনীষীদের ফলকও রেহাই পায়নি। নোংরাতে ভরিয়ে দিয়ে পুরো শহরটাকে এরই মধ্যে বদলে দেওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে লিটন বলেন, বুলবুল সব দিক থেকেই ব্যর্থ হয়ে জনসমর্থন হারিয়েছেন। এবার আর জনগণ তাঁদের মিথ্যা প্রচারণায় কান দিচ্ছে না। বুলবুলের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, তাঁদের দলের নেতাকর্মীদের দ্বন্দ্বের কারণেই তারা মাঠে নামতে পারছে না। এখানে প্রশাসন কী করবে?
সিলেটে আওয়ামী লীগ মাঠে, বিএনপি এখনো ঘরে
সিলেটে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই মাঠে রয়েছে দলের নেতাকর্মীরা। মনোনয়ন দাখিলের পর থেকে প্রার্থী অব্যাহতভাবে গণসংযোগ, মতবিনিময় চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে বিএনপি এখনো নির্বাচনী কার্যক্রম শুরুই করতে পারেনি। প্রার্থী ঘোষণা করলেও বিদ্রোহী প্রার্থী আর জোটের শরিক জামায়াতের প্রার্থী নিয়ে বেশ বেকায়দায় রয়েছে দলটি। সরকারদলীয় প্রার্থীর পক্ষে এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ এবং ১৪ দলের একাধিক সভা হলেও বিএনপি মাত্র দুটি সভা করতে পেরেছে।
মেয়র পদে একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা প্রার্থী হতে চাইলেও গত ২২ জুন সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরানকে প্রার্থী ঘোষণা করে দলটি। অন্য মনোনয়নপ্রত্যাশীরা বিষয়টি মেনেও নেন। অন্যদিকে বিএনপিতেও একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী ঘোষণার পাঁচ দিন পর ২৭ জুন সদ্য সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। কিন্তু সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিমও মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। অন্যদিকে ২০ দলীয় জোটের শরিক জামায়াতও নিজেদের প্রার্থী দিয়েছে। এ অবস্থায় বিএনপি সব দিক থেকেই পিছিয়ে পড়েছে।
নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে সভা, গণসংযোগ এবং লিফলেট বিতরণ করে যাচ্ছে। দলের মনোনয়ন নিয়ে ২৩ জুন কামরান সিলেটে ফিরলে দক্ষিণ সুরমা এলাকায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সংবর্ধনা দেয়। পরদিনই তিনি ২৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এর পর থেকে প্রায় প্রতিদিনই তিনি নিজে কিংবা নেতাকর্মীরা প্রচার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। মনোনয়ন দাখিলের আগের দিন ২৭ জুন বর্ধিতসভা করে মহানগর যুবলীগ। ২৯ জুন নগরের ১৭ ও ১০ নম্বর ওয়ার্ডে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট সভা করে। ৩০ জুন নগরে লিফলেট বিতরণ করে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ। গত রবিবার নগরের জল্লারপার এলাকাবাসীর সঙ্গে এবং কালীঘাটে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। একই দিন দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে শাহপরান এলাকায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের সভা অনুষ্ঠিত হয়। গত বুধবার জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিতসভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ছাড়া গত মঙ্গলবার রাতে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীর বাসায় ১৪ দলের এক সভায় কামরানকে জয়ী করতে নগরবাসীর প্রতিও আহ্বান জানানো হয়েছে।
ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ বিরোধ যাতে নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে না পারে সে উদ্যোগও নিয়েছেন কামরান। নগরের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ছাত্রলীগের বিভিন্ন গ্রুপের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। কামরান বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে ছাত্রলীগে কোনো গ্রুপিং নেই। সব গ্রুপের নেতাকর্মীরাই আমার সঙ্গে দেখা করেছেন। আমি নিজেও তাঁদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে বসছি।’
অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থীকে নিয়ে এখন পর্যন্ত দলের কোনো তৎপরতা লক্ষ করা যায়নি। গত ২ জুলাই রাতে নগরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীকে নিয়ে ২০ দলীয় জোটের একটি সভা হলেও শরিকদের অনেকে অনুপস্থিত ছিলেন। প্রার্থীর বাসায় বিএনপির নেতাকর্মীরা একটি বৈঠক করেছে এ পর্যন্ত। দলের বিদ্রোহী প্রার্থী কিংবা জামায়াতের প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে সরানোর ব্যাপারেও কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি দল বা জোট। গতকাল বৃহস্পতিবার জেলা ও মহানগর বিএনপির বিশেষ যে সভা ডাকা হয় তাতে আলোচ্যসূচি হিসেবে চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবির কথা থাকলেও নির্বাচন প্রসঙ্গে কিছু বলা ছিল না। এর আগে মঙ্গলবার রাতে সিলেট বিভাগের বিএনপি নেতাদের নিয়ে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সভা করলেও এটি সাংগঠনিক সভা ছিল বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন বলেন, ‘নির্বাচনী কার্যক্রম এখন করা যাবে না। তাই আমরা সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছি। প্রতীক পাওয়ার পর থেকে আমরা নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করব।’ বিদ্রোহী প্রার্থী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সেলিম বিএনপির দীর্ঘদিনের একজন মাঠকর্মী। দলের বৃহত্তর স্বার্থে নিজের অবস্থান থেকে সরে আসবেন বলে আমরা আশাবাদী।’ তবে সেলিম নির্বাচনের ব্যাপারে অনড়। তিনি বলেন, ‘মনোনয়নপত্র দাখিলের দিন থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। তবে আমি সরে দাঁড়াব না।’
বরিশালেও মাঠ আওয়ামী লীগের দখলে
গত মঙ্গলবার ছিল বরিশালের পরিচিত মুখ নাট্যজন সৈয়দ দুলালের জন্মদিন। তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে তাঁর সংগঠন শব্দাবলী গ্রুপ থিয়েটারে হাজির হন বরিশালের সুধীসমাজ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিসহ গুণীজনরা। জন্মদিনের কেক কাটার ঠিক আগ মুহূর্তে সেখানে হাজির হন আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। সবার সঙ্গে মিলে তিনি কেক কেটে নিজের নির্বাচনের জন্য দোয়া চান। এভাবেই হয়ে যায় তাঁর নির্বাচনী প্রচারণা। এভাবে সামাজিক কর্মসূচি এবং রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে চলছে সাদিক আবদুল্লাহর ঘরোয়া প্রচারণা। পাশাপাশি প্রচারণার মাঠে আছে তাঁর পুরো পরিবার। তাঁর বাবা হচ্ছেন সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ্, মা জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সাহান আরা বেগম, ছোট দুই ভাই জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য সেরনিয়াবাত আশিক আবদুল্লাহ ও কৃষক লীগ নেতা সেরনিয়াবাত মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ।
বাবা আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ্ নগরীতে প্রবেশ না করে এর আশপাশের উপজেলাগুলোতে সব নেতাকর্মীকে একত্র করে প্রচারণা চালাচ্ছেন। গত সোমবার নগরীর উপকণ্ঠ বাবুগঞ্জ উপজেলায় আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তিনি বক্তব্য দেন। এর আগে আগৈলঝাড়ার বাসভবনে দলীয় কয়েকজন সংসদ সদস্য ও নেতাকর্মীদের নিয়ে বৈঠক করেন। গত শনিবার সাদিকের পক্ষে জেলা-মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রীদের নিয়ে বৈঠক করেন তাঁর মা সাহান আরা। দুই ভাইও নেতাকর্মীদের নিয়ে ঘরোয়া বৈঠক করছেন একের পর এক।
মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল বলেন, নগর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সভা-সমাবেশ প্রতিদিন হয়। সেখানে সাদিক আবদুল্লাহ উপস্থিত হয়ে দোয়া চান।
অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারের পক্ষে প্রচারণা এখনো ঘরোয়া কর্মসূচির মধ্যেই আবদ্ধ। সেখানেও শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা অনুপস্থিত থাকেন। কর্মীদের দেখা মেলে না। ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতারা মামলার ভয়ে ঘরোয়াভাবে কর্মীদের সঙ্গে বসছেন। অভ্যন্তরীণ বিরোধও তীব্র। স্থানীয় কয়েকজন নেতা বলছেন, নির্বাচন কিংবা দলীয় পদ, সবখানেই সরোয়ার। সরোয়ার চান না নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি হোক। এসব কারণে তৃণমূল থেকে শুরু করে শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ।
জানা গেছে, এবারও মনোনয়ন চেয়েছিলেন বর্তমান মেয়র আহসান হাবীব কামাল। প্রত্যাশী ছিলেন আগেরবারের মনোনয়নপ্রত্যাশী এবায়দুল হক চানও। বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার শিরিনও মনোনয়ন দৌড়ে ছিলেন। সরোয়ার মনোনয়ন পাওয়ায় চান-শিরিন এখন মাঠে নেই। তাঁরা অবশ্য বলছেন, প্রতীক বরাদ্দের পরই তাঁরা মাঠে নামবেন। আর মনোনয়ন দৌড়ে ছিটকে পড়ায় কামালও দূরে দূরে রয়েছেন। কামালের দাবি তিনি বর্তমান মেয়র। আর নির্বাচনী আচরণবিধি অনুসারে তিনি প্রচারণায় যেতে পারবেন না। তবে আচরণবিধি মেনেই দলীয় প্রার্থীর কাজ করবেন। সরোয়ার বলেন, ‘নির্বাচনী আচরণবিধির প্রতি সম্মান রেখে আমরা এখনো প্রচারণা শুরু করিনি। আর আমাদের নিজেদের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব নেই।’
জেলা-মহানগর বিএনপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, বিএনপির দুর্গখ্যাত বরিশালে ক্রমেই কর্মীবিহীন হয়ে পড়ছে। এর কারণ কর্মীদের কেউ কারাবন্দি, কেউ মাসের মধ্যে চার-পাঁচ দিন মামলার হাজিরা দিতে ছোটে আদালতে। আবার অনেকেই গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




  • ডিজাইনঃবেসিক নিউস২৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com