রবিবার, ১৯ অগাস্ট ২০১৮, ০৯:২৭ পূর্বাহ্ন

কলাপাড়া-কুয়াকাটা মহাসড়কে চলছে ঈদ নামে চাঁদাবাজি

কলাপাড়া-কুয়াকাটা মহাসড়কে চলছে ঈদ নামে চাঁদাবাজি

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা :
ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের কলাপাড়া-কুয়াকাটা অংশে ঈদে বাড়ী ফেরা মানুষ ও কুয়াকাটায় আগত পর্যটক বহনকারী যানবাহন থেকে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে ঈদ বখশিসের নামে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইতোপূর্বে এ চক্রের সদস্যরা পৌরকরের নামে যানবাহন থেকে টাকা উত্তোলনের পর এ বিষয়টি খবরের শিরোনাম হলে এটি প্রশাসনের নজরে আসায় সাময়িক বন্ধ হয় চাঁদাবাজি। কিন্তু ঈদকে সামনে রেে বখশিসের নামে ফের চলছে এ ছাঁদাবাজি। কলাপাড়া পৌরসভার মেয়র বলছেন কলাপাড়া থানা পুলিশকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য।
সরেজমিনে জানা যায়, ঈদে বাড়ী ফেরা ঘরমুখো মানুষ ও কুয়াকাটায় আগত পর্যটক বহনকারী যানবাহন থেকে একটি চক্র পৌরকরের নামে সকল ধরনের যানবাহন চালকদের কাছ থেকে ঈদ বখশিসের নামে চাঁদা আদায় করছে। এসব বাসের চালকরা ৫০ টাকা করে বখশিস দেয়ার জন্য অনুনয় করলেও সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য মূসা, রাজা সহ ’ভাই’র লোক’ পরিচয়ে ক্ষমতাধর এরা কোন কথা মানতে নারাজ। কলাপাড়া পৌরসভার মেয়র বিপুল চন্দ্র হাওলাদার পর্যটকবাহী বাস-মাইক্রোসহ কোন যানবাহন থেকে পৌরকর না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও তারা তা মানছে না।
কলাপাড়া পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভায় প্রবেশ করলে কিংবা পৌর এলাকায় অবস্থান করলে পৌর টোল হিসাবে বড় ট্রাক প্রতি এক শ’ টাকা, মাঝারি ট্রাক ৭৫ টাকা, ছোট পিক-আপ-ট্রাক পঞ্চাশ টাকা, মাহেন্দ্র ৩০ টাকা, টমটম ২০ টাকা, অটোবাইক ২০ টাকা, হোন্ডা ১০ টাকা আদায় করার কথা। কিন্তু পৌরসভার অভ্যন্তরে প্রবেশ না করলে কোন ধরনের পৌরটোল আদায়ের নিয়ম নেই। কিন্তু এসব উপেক্ষা করে এমন চাঁদাবাজী চলছে প্রকাশ্যে।
পর্যটকবাহী এক বাসের সুপারভাইজার মোঃ সোহেল জানান, টাকা না দিলে অশালীন ভাষায় গালাগাল করা হয়। শেখ কামাল সেতুর উত্তর অংশে সংযোগ সড়কে এমন চাঁদাবাজীতে শুধু পর্যটকবাহী বাস নয়, মাইক্রো, প্রাইভেট কার, অটো রিকশা, মোটর সাইকেল থেকে শুরু করে সব ধরনের যানবাহন থেকে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজী চলছে। বর্তমানে এমন চাঁদাবাজিতে যানবাহনের চালকরা অতিষ্ট হয়ে পড়েছে। এতে ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে সরকারের।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, সংঘবদ্ধ এ চক্রের সদস্যরা ট্রাক প্রতি এক শ’ টাকা, ছোট যাত্রীবাহী পিক-আপ থেকে এক শ’ টাকা, মোটর সাইকেল প্রতি বিশ টাকা, পরিবহন বাস থেকে পঞ্চাশ টাকা, লোকাল বাস প্রতি ত্রিশ টাকা, গেটলক বাস প্রতি ত্রিশ টাকা, টমটম ত্রিশ টাকা, মাহেন্দ্র থেকে পঞ্চাশ টাকা হারে আদায় করছে। এছাড়া পৌরসভায় প্রবেশ না করলেও কুয়াকাটাগামী রিজার্ভ বাস প্রতি আদায় করছে এক শ’ টাকা। ওইসব খাত ছাড়াও শ্রমিক ইউনিয়নের নামে ট্রাক প্রতি ৫০ টাকা, পরিবহন বাস প্রতি ৩০ টাকা, লোকাল বাস প্রতি বিশ টাকা এবং গেটলক প্রতি বিশ টাকা অদায় করছে। এছাড়াও টমটম প্রতি মাসে দেড় শ’ টাকা। মাহেন্দ্র প্রতি মাসিক আরও ৫০ টাকা, টমটম প্রতি সপ্তাহে ২০ টাকা। এভাবে সব ধরনের যানবাহন আটকে লাখ লাখ টাকা আদায় করা হচ্ছে। এছাড়া পুলিশ বিটের নামে মাছের ট্রাক, যানবাহন ও পন্যবাহী ভারী যান থেকে উত্তোলন করা হচ্ছে টাকা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চাঁদা অদায়কারী জানান, রাজা, মাসুম, কালাম বয়াতী, মুসা, খোকন, রেজাউল ও অলি টাকা আদায় করেন। তিনি আরও জানান, দৈনিক নয় হাজার টাকা দেয়ার শর্তে যানবাহন থেকে এ টাকা তুলছেন তারা। এদের শেল্টার দাতা ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠনের এক ভাই, যার ক্যাডার বাহিনী থাকায় ভাই’র লোকের বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।
কলাপাড়া পৌরসভার মেয়র বিপুল চন্দ্র হাওলাদার জানান, পৌরসভার নির্ধারিত টোলরেট রয়েছে। এর বাইরে কোন টাকা আদায়ের সুযোগ নেই। এছাড়া কুয়াকাটাগামী বাস-ট্রাক সহ কোন ধরনের যানবাহন থেকে পৌর টোল আদায় করা যাবে না। কলাপাড়া থানা পুলিশকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য।
কলাপাড়া থানার অফিসার ইন-চার্জ মো: জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, মহাসড়কে অতিরিক্ত টোল আদায়ের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




  • ডিজাইনঃবেসিক নিউস২৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com