আমরা সত্য প্রকাশে আপোষহীন

আমাদের সাইটে আপনাকে স্বাগতম।

খুন : বাদি পক্ষে আইনজীবীদের আইনী লড়াইয়ে অনীহা

1 min read

শহর প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের টানবাজারে মাদক বিরোধী সভায় হামলা চালিয়ে আরজু বেগম নামে এক নারীকে হত্যা করা হয়েছিল গত ২৯ মার্চ রাতে। ওই ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকায় অ্যাডভোকেট হামিদা খাতুন লিজা ও তার বোন ছোট বোন শিক্ষানবিশ আইনজীবী অ্যাডভোকেট আসমাসহ ৪ নারীকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। আসামীরা আইনজীবী হওয়ায় এখন নিহত আরজু বেগমের পরিবারের বিরুদ্ধে নানা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। ওইসব মামলা মোকাবেলা করার জন্য আরজু বেগমের পরিবারের পক্ষে কোন আইনজীবী আইনী লড়াই চালাতে রাজি হচ্ছে না।
গতকাল সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে নিহত আরজু বেগমের পরিবারের সদস্যরা এ দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আরজু বেগম হত্যা মামলার বাদি নিহতের বড় বোনের ছেলে সাদ্দাম হোসেন, বড় বোন পরী বেগম, স্বামী আক্তার হোসেন, ছোট মেয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী লামিয়া আক্তার।
নিহত আরজু বেগমের বড় বোন পরী বেগম বলেন, আমাদের নামে ঘটনার পর উল্টো ২টা মামলা দিয়া আমাদের হয়রানি করতাছে। তাদের মামলার কারণে আমরা কোর্টে যাইতে পারতাছি না। যদিও কোর্টে যাই তাইলেও হেগো পক্ষে কমসে কম ১০০ উকিল দাঁড়ায়। আমাগো পক্ষে শুধু এপিপি (রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলী) দাঁড়ায়। আর কোনো উকিল পাই না।
সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, ‘আপনাগো মাধ্যমে আমরা কিছু উকিল পাইতে চাই। আমরা অসহায় আপনারা আমগো লাইগা কিছু করেন।’
আরজু বেগমের ছোট মেয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী লামিয়া আক্তার বলে, ‘আমার বাবায় কী আমারে বড় করতে পারে? স্কুলে নিয়া যাইতে পারে? আমার বাবা মাইনষের থেইক্যা টাকা তুইলা মামলা চালায়। আমার মা আইজ নাইক্কা দেইখা, আমি আমার বাবারে রাইন্ধা খাওয়াইতে পারি না। আমার মার খুনের কি বিচার হবে না? আমি আমার মায়ের হত্যার বিচার চাই। আমার মারে যে মাইরা ফালাইছে তার কী বিচার হবে না?’
মামলার বাদী আরজু বেগমের বড় বোনের ছেলে সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘কালকে কোর্টের এক উকিলের সঙ্গে কথা বলেছিলাম তাকে আমাদের পক্ষে দাড়াতে বললে তিনি বলেন, কাক কখনো কাকের মাংস খায় না। আমি একজন আইনজীবী হয়ে আরেকজন আইনজীবীর বিপক্ষে দাড়াবো না। যদি আমাদের সামনে ৫টা খুন করে তাও আমরা তার বিপক্ষে দাড়াবো না। বার থেকে নিষেধ করা আছে। জজ কোর্টের সব উকিল এই কথা বলে আমাদের পক্ষে দাড়াতে মানা করে দেয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজকে আমরা গরিব বলে যদি একজন আইনজীবী যিনি খুনের মামলার আসামী তার কি বিচার হবে না। তাহলে সাধারণ মানুষের আইনের উপর থেকে মানুষের আস্থা থাকবে না। তাই প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাবো আসামিদেরকে যাতে দ্রæত বিচারের আওতায় আনা হয়।’
বাদি পক্ষের লোকদের এমন অভিযোগের বিষয়ে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রেস ক্লাবে বসে আইনজীবী খুঁজলে হবে না। আইনজীবী নিয়োগ করতে হলে আদালতে আসতে হবে। তাছাড়া জেলা আইনজীবী সমিতির এমন কোন সিদ্ধান্ত নেই যে, আসামী আইনজীবী হওয়ায় বাদি পক্ষে কেউ লড়বে না। তাদের পক্ষে আদালতের এপিপি শামীম হোসেন রয়েছেন। তিনি তাদের নিয়োজিত আইনজীবী। অন্য আরও আইনজীবী নিয়োগ করতে চাইলে তারা আদালতে এসে পছন্দ মতো আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের নিয়োগ দিবে। এতে জেলা আইনজীবী সমিতির কোন বাধা নেই।
উল্লেখ্য, গত ২৯ মার্চ বিকেলে টানবাজারের র‌্যালি বাগান এলাকায় মাদক বিরোধী সভায় হামলা চালিয়ে মাদক নির্মূল কমিটির সদস্য আরজু বেগমকে হত্যা করা হয়। আরজু বেগম র‌্যালি বাগান মাদক নির্মূল কমিটির সহ সভাপতি ছিলেন। অ্যাডভোকেট হামিদা খাতুন লিজা ও তার ছোট বোন শিক্ষানবিশ আইনজীবী অ্যাডভোকেট আসমার বিরুদ্ধে অভিযোগ, র‌্যালি বাগান এলাকার মাদক ব্যবসায়িদের কেউ গ্রেফতার হলে তাদের জামিনের ব্যবস্থা করেন তারা। এ কারণে ওই এলাকায় মাদক ব্যবসা বন্ধ হচ্ছিল না। তাই র‌্যালি বাগান এলাকার মাদক নির্মূল কমিটির পক্ষ থেকে অ্যাডভোকেট লিজা ও তার ছোট বোন আসমাকে অনুরোধ করা হয়েছিল যাতে তারা মাদক ব্যবসায়িদের সহযোগিতা না করেন। এ নিয়ে লিজা ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে র‌্যালি বাগান মাদক নির্মূল কমিটির দ্ব›দ্ব চলে আসছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *