আমরা সত্য প্রকাশে আপোষহীন

আমাদের সাইটে আপনাকে স্বাগতম।

গত দশ বছরে দেশের অর্থনীতি এক মিনিটের জন্য পিছায়নি- অর্থমন্ত্রী

1 min read

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল বলেছেন, বিগত দশ বছরে দেশের অর্থনীতি এক মিনিটের জন্য পিছিয়ে পরেনি। দেশের মূল্যস্ফীতি গত কয়েকবছর ধরে এক জায়গায়ই রয়েছে। অন্যদিকে আগামী বছরে অর্থাৎ ২০২০ সালে বাংলাদেশের মাথা পিছু আয় ভারতের সমান হবে। এখন আমরা সবদিক থেকে সারা বিশ্বের ওপরে। আমরা বর্তমানে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে সবার ওপরে আছি। এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। আমাদের জিডিপির আকার বেড়েছে।

বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে ক্রয় সংক্রান্ত ও অর্থনৈতিক সংক্রান্ত মন্ত্রীসভা কমিটির বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ভারতের এক পত্রিকা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড লিখেছে ২০২০ সালের মধ্যে বাংলাদের মাথাপিছু আয় হবে ভারতের সমান। এখন আমরা সবদিক থেকে সারা বিশ্বর উপরে এবং ভারতের সমান আমাদের মাথা পিছু আয় হবে আগামী বছর।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, একটা দেশের অর্থনীতি কতটা শক্তিশালী তা নির্ভর করে ঘাটতি অর্থায়ন ও মূল্যস্ফীতির ওপর। আমাদের দুটিই নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে। গত ১০ বছরে আমাদের ১ মিনিটের জন্য অর্থনীতি পিছায়নি। মুল্যস্ফীতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। আমাদের বাজেট অনেক বেশি থাকে।

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রীয় কোষাগারের মাদ্যমে রাষ্ট্রের টাকা জমা হয়। সেখান থেকেই সাংবিধানিক চাহিদা মেটানো হয়। যখন কোনও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের টাকার প্রয়োজন হয় তখন রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকেই দেওয়া হয়। তিনি বলেন, সব টাকা সরকারের হাত থেকে যাচ্ছে। তবে কোনটা অগ্রণী কোনটা রূপালী ব্যাংক থেকে যাবে সেটা ভিন্ন বিষয়। সরকার সে বিষেয় সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তবে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে আমরা কোন অবস্থানে আছি।

আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, আমরা দেখেছি এনবিআর যেহেতু রাজস্ব আহরন করে, তারা মনে করে এটা তাদের হক যে তারা সে টাকা খরচ করবে। তারা একনেকের অনুমোদন নেয় না, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নেয় না। এমনকি কোন কমিটির অনুমোদন না নিয়ে বিরাট বিরাট বিল্ডিং করা শুরু করে দেয়। এভাবে কি চলতে পারে?

সরকারি সংস্থাগুলোর অলস টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট দেখা দেবে কিনা জানতে চাইলে আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের কোন ব্যাংক নাই, অফিসে সুটকেসও নেই; টাকা এনে কোথায় রাখব। কোন ব্যাংক থেকে টাকা নেওয়া হবে না, ফলে কোান ব্যাংকের লিকুইডিটি (তারল্য) সংকট হবে না। ডিপোজিট যেগুলো কনটিনিউ আছে, তা ভাঙ্গা হবে না। আমাদের শুধু জানাতে হবে, যে এখানে তাদের ডিপোজিট আছে। এই মূহুর্তে আমরা ডিপোজিট গ্রহন করবো কেন?

অর্থমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রীয় কোষাগারের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সকল জমার বিষয়টি আমাদের সাংবিধানিক চাহিদা। আমরা লক্ষ্য করেছি বিভিন্ন কোম্পানি আমরা করি, সরকার থেকে টাকা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। তারা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তারা মনে করে এটা তাদের টাকা। তখন তারা সেই টাকা সৎভাবে ব্যবহার করে না। মিটিংয়ের নাম করে বিভিন্ন অনিয়ম থাকে। এখানে সমন্বিতভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে অনেক বেশি সফলতা পাওয়া যায়। সে জন্য আমরা এটি করতে চাইছি।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, আমরা দেখেছি এনবিআর যেহেতু রাজস্ব আহরন করে, তারা মনে করে এটা তাদের হক যে তারা সে টাকা খরচ করবে। তারা একনেকের অনুমোদন নেয় না, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নেয় না। এমনকি কোন কমিটির অনুমোদন না নিয়ে বিরাট বিরাট বিল্ডিং করা শুরু করে দেয়। এভাবে কি চলতে পারে? সেজন্য এটি করা হচ্ছে। এতে আমাদের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। তাদের কাছে যথেষ্ট টাকা রাখা হচ্ছে, তাদের কাছে কোন প্রজেক্ট থাকলে সেজন্যও তারা টাকা রাখতে পারবে। তাদের যে টাকা এই মূহুর্তে দরকার নাই সে টাকা আমরা সরকারি কোষাগারে নিয়ে আসছি।

সরকারের কোন বিভাগ থেকে বিরোধীতা পাননি উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, কোন বিভাগ থেকে বিরোধীতা করা হয়নি। কোন কোম্পানি হওয়ার সময় টাকা দেয় সরকার। এগুলোর মালিক সরকার। সরকার মালিক হলে সরকার কি দাবি করতে পারে না যে আমাদের টাকা কিভাবে খরচ করবে, সেটা আমাদের জানা দরকার। তাদের বিভিন্ন রকমের বিনিয়োগ রয়েছে। কেউ বিনিয়োগ করেছে সেটি মাঝ পথে থাকলে আমরা তা নিয়ে আসতে পারব না। পাবলিক কোম্পানিগুলোতে আমরা এখনো হাত দেইনি। সেখানে পরিচালনা পরিষদ আছে, তাই সেখানে ডিসিপ্লিন আছে। আমরা অর্থনৈতিক খাতে ডিসিপ্লিন আনতে চাই। এটা ভেঙ্গে গেলে সরকারি অর্থিক ব্যবস্থাপনা দুর্বল হয়ে যাবে।

আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, রফতানিসহ অর্থনীতির সকল এলাকাতে আমরা ভালো আছি। বাংলাদেশ ক্রমাগত এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা ভারত থেকে ভালো আছি। বিদেশি বিনিয়োগ থাকলে দেশের অর্থনীতি ভালো না থাকলে বিনিয়োগ চলে যায়। আমাদের দেশে সে হারে বিদেশি বিনিয়োগ নেই।

আরেক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সোনালী ব্যাংকের ঋণ-দুর্নীতিগ্রস্ত হলমার্ক গ্রæপ আবার ব্যবসায় ফিরতে হলে সকল টাকা পরিষোধ করতে হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, হলমার্ক টাকা দেবে। সবাই টাকা দেবে, এটা বিশ্বাস রাখেন। তারা আবার ব্যবসায় ফিরবে, সবাই ব্যবসায় ফিরবে। আমি নতুন করে ব্যবসায়ী সৃষ্টি করতে পারব না। যারা আছে তাদেরকে দিয়েই ব্যবসা করতে হবে। আমি চাই আমার টাকাটা দিয়ে দিক, সুন্দরভাবে জীবন-যাপন করুক। তবে হলর্মাক টাকা দিবে।

More Stories

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *