দাগী অপরাধীদের আতঙ্ক আর সাধারণ মানুষের বন্ধু ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূর-ই-আলম সিদ্দিকী

leadnews দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল

নূর-ই-আলম সিদ্দিকী। কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে ভেড়ামারা সার্কেলে কর্মরত। নূর-ই-আলম সিদ্দিকী কুষ্টিয়া জেলা পুলিশে যোগদানের পর থেকে বেশ কয়েকটি বড় বড় ঘটনার সার তথ্য উৎঘাটনের মধ্য দিয়ে আলোচনায় এসেছেন। শুধু ভেড়ামারা-মিরপুর এলাকার মানুষের কাছে নয় নূর-ই-আলম সিদ্দিকী এখন জেলার বাসিন্দাদের কাছে একটি আস্থার নাম, একটি নির্ভরতার নাম। একজন পুলিশ কর্মকর্তার মূল কাজ জনগণের সেবা করা। যে কোন সমস্যায় তাদের পাশে থাকা। সব পুলিশ কর্মকর্তায় হয়তো সেটায় করেন কিন্তু নূর-ই-আলম সিদ্দিকী দায়িত্বটা একটু ভিন্নভাবে পালন করেন। পুলিশের বড় কর্তাদের কাছে সাধারণ অনেক সময় তার অভিযোগ জানাতে গিয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্মূখীন হন সাধারণ মানুষের এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। নূর-ই-আলম সিদ্দিকী সাধারণ মানুষের প্রত্যাশিত সেবাকে দোর গোড়ায় পৌছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তরুন এই পুলিশ কর্তা যোগদানের পর থেকেই অত্যন্ত সুনামের সাথে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। অত্যন্ত মেধাবী এই পুলিশ কর্মকর্তা ছোটবেলা থেকেই দায়িত্বের প্রতি আপোষহীন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে মাস্টার্স শেষ করে তিনি ২০১২ সালে ৩০তম বিসিএস ক্যাডারে পুলিশে যোগদান করেছেন। নূর-ই-আলম সিদ্দিকী ব্যাপক পরিসরে আলোচনায় আসেন চলতি বছরের ৮ জন মিরপুর উপজেলার চিথলিয়া গ্রামের দেবদত্ত অপহরন, হত্যা, লাশ উদ্ধার ও এই ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের চিহ্নিতকরন এক কথায় পূরো ঘটনার রহস্য উন্মোচনের মধ্য দিয়ে। ৮ জুন দেবদত্ত অপহরনের ১৭দিন পর অর্থাৎ ২৫ জুন দেবদত্তের প্রতিবেশী চিথলিয়া গ্রামের জহুরুলের বাড়ির পুরোনো টয়লেট থেকে তার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সেই জেলার আলোচিত এই ঘটনাটি সারা দেশের মানুষ নাড়া দেই। সাধারণ মানুষের মাঝে কৌতুহূল কাজ করছিলো ঘটনার আদ্যেপান্ত জানতে। ২৫ জুন দেবদত্তের লাশ উদ্ধারের ১দিন পরই ঘটনার সাথে জড়িত আসামীরা চিহিন্ত হয়। তবে দেবদত্ত অপহরনের পর থেকে এই ঘটনার রহস্য উন্মোচনে কাজ করছিলেন নূর-ই-আলম সিদ্দিকী। তার নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক দল এই ঘটনার রহস্য উন্মোচনে মাঠে নামে। ঘটনাটি সেই সময় জেলার মানুষের মাঝে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। দেবদত্ত অপহরন, লাশ উদ্ধার এবং আসামীদের সনাক্তসহ তাদের আইনের আওতায় নিতে অত্যন্ত দুরদৃষ্টি সম্পূর্ন একজন পুলিম কর্মকর্তার পরিচয় দেন নূর-ই-আলম সিদ্দিকী। দেবদত্তের লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ জানতে পারে একটি সংঘবদ্ধ চক্র এই অপহরন ও হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত। তবে দেবদত্তকে অপহরনের পর পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছিলো তাকে জীবিত উদ্ধার করা। কিন্তু অপহরনকারীরা ধরা পড়ার ভয়ে দেবদত্তকে হত্যা করে। ফলে আসামীদের সনাক্ত ও তাদের গ্রেফতারের দিকে নজর দিতে হয় পুলিশকে। নূর-ই-আলম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে পুলিশ এই অপহরনের সাথে জড়িত চিথলিয়া গ্রামের জহিরুল ইসলামের ছেলে নাইম ইসলাম (২০) কে আটক করে তাকে নিয়ে তার সহযোগিদের গ্রেফতারে অভিযান চালালে তাদের সাথে পুলিশের বন্দুক যুদ্ধে তাদের নাইম ও তাদের আরেক সহযোগি একই গ্রামের আক্কাস আলীর ছেলে জোয়াদ আলী নিহত হয়। পুলিশের অভিযান ও আসামী শনাক্তের মাধ্যমে এলাকার মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে।
আরেকটি ঘটনা ছিলো মিরপুরের হঠাৎপাড়া এলাকায় শিশু সাবিহাকে ধর্ষণ ও খুনের সাথে জড়িত আসামীদের শনাক্ত ও গ্রেফতার। চলতি বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর শিশু সাবিহার লাশ উদ্ধার করে মিরপুর থানা পুলিশ। শিশু সাবিহার লাশ উদ্ধারের পর ব্যাপক এক চ্যালেঞ্চের মধ্যে পড়তে হয় পুলিশকে। কারন এলাকার মানুষের মাঝে রটে যায়, জিন বা অশরীরি কোন আত্মার কুদৃষ্টিতে সাবিহা মারা গেছে। এইরকম একটি ঘটনার রহস্য উৎঘাটনে নূর-ই-আলম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে মাঠে নামে পুলিশের একাধিক দল। গোয়েন্দা তথ্য, শিশু সাবিহার মরদেহ পড়ে থাকার স্থান ও প্রাথমিক সুরতহাল বিবেচনা করে পুলিশের এই কর্মকর্তা নিশ্চিত হন সাবিহাকে ধর্ষন ও পরে খুন করা হয়েছে। কিন্তু এরকম একটি ঘটনার রহস্য উন্মোচন নিঃসন্দেহে একটি চ্যালেঞ্চের কাজ ছিলো। কিন্তু সব অসম্ভবকে সম্ভব করে নিজের মেধা আর কৌশল দিয়ে নূর-ই-আলম সিদ্দিকী সাবিহা হত্যার মুল আসামী আবু তালেবকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর আবু তালেব স্বীকার করে ধর্ষনের পর শ্বাসরোধ করে সাবিহাকে হত্যা করে সে। আসামী আবু তালেব এখন কারাগারে। এই ঘটনাটিও জেলার একটি অন্যতম চাঞ্চল্যকর হত্যা কান্ড যার রহস্য উন্মোচনে ভূমিকা পালন করেন বর্তমানে ভেড়ামারা সার্কেলে কর্মরত নূর-ই-আলম সিদ্দিকী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *