বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৮:১৬ পূর্বাহ্ন

দুধের দামে পানি বিক্রি : কলারোয়া পৌরবাসী আর্সেনিক ঝুঁকিতে

দুধের দামে পানি বিক্রি : কলারোয়া পৌরবাসী আর্সেনিক ঝুঁকিতে

কলারোয়া পৌর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি :
কলারোয়া পৌরসদরে দুধের দামে পানি বিক্রি হয়। এক লিটার দুধ ২৫ টাকা আর এক লিটার বিশুদ্ধ পানির দাম ২০ টাকা। যার কারণে আমরা পৌরবাসীরা দুধ বেঁচে পানি কিনি। কলারোয়া পৌরবাসীর নাগরিক সেবার সম্পর্কে এমনই মন্তব্য করেন কলারোয়া পৌরসদরের মুরারীকাটি গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন। তিনি আরো বলেন, কলারোয়া পৌরসভায় নাগরিক আছে কিন্তু সেবা নেই। নাগরিক সেবা কি তা পৌর সভার ৮০ ভাগ মানুষ জানেই না। তাই সেবা নিয়ে মাতা মাতি না করে পানিতে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক দূষণ থাকায় সুপেয় পানির দাবি জানিয়ে আসছেন তারা বছরের পর বছর ধরে। পৌরসভা স্থাপনের পর থেকে প্রায় ২৮ বছর ধরে প্রশাসনসহ পৌরপিতারা শুধু আশ্বাসের বাণীই যা শুনিয়ে যাচ্ছেন। পৌর বাসির জন্য পানি সরবরাহ প্রকল্প স্থাপন করা হলেও তা নানা জটিলায় শুধু আশার বানিতে চাপা পড়েছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯৯০ সালে সাতক্ষীরার কলারোয়ায় পৌরসভা স্থাপিত হয়। সে সময় সীমানা সংক্রান্ত জটিলায় উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের হলে তা নিষ্পত্তি হতে ২১ বছর সময় লাগে। এ সময়টিতে এখানে নির্বাচন হয়নি। পৌরসভায় মরহুম আজিজুল হক চৌধুরীর দীর্ঘদিন প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগন ভারপ্রাপ্ত পৌর মেয়রের দায়িত্ব পালন করে গেছেন। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় নাগরিক সুবিধা বলতে যা যা বুঝায় তার কিছুই দেয়া হতো না পৌর বাসিকে। ২০০১ সালে জানুয়ারী মাসে প্রথম নির্বাচনে বিএনপি নেতা গাজী আক্তারুল ইসলাম মেয়র হিসাবে জয়লাভ করেন। এসময় তিনিসহ ওয়ার্ড কমিশনাররাও জয়ী হয়ে পৌর বাসিকে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করবেন বলে ওয়াদা করেন। পরে তারা পানির কথা পানির মতোই ভূলে যায়। সময়ে সময়ে মাইক বজিয়ে পৌরবাসিকে নানান ধরনের সুযোগ সুবেধের কথা বলে শুধু পৌর করই যা আদায় করা হয়।
কলারোয়ার উন্নয়ন সংস্থা জেস ফাউন্ডেশন অফিস সুত্র জানায়, গত ২০০৪ সালে বেসরকারি সংস্থা ‘জেস ফাউন্ডেশন’ পৌর এলাকায় সুপেয় পানি সরবরাহ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের সম্মতি সাপেক্ষে বগুড়র আরডিএ’র সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়। সে মোতাবেক বগুড়ার রুরাল ডেভলপমেন্ট একাডেমি (আরডিএ) এর অর্থ সহযোগিতায় পৌর এলাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য ১৮ লাখ টাকার প্রকল্পের কাজও শুরু হয়। এ প্রকল্পের জন্য পৌরসভার ট্রাক টার্মিনালের পাশে পানির হাউজ-প্ল্যান্ট নির্মাণ ও সেখান থেকে তুলসীডাঙ্গা ফুড গোডাউন পর্যন্ত পাইপ লাইনের কাজ হয়ে তা বন্ধ হয়ে যায়। একটি হাউজ-ট্যাঙ্ক ও সামান্য পাইপ লাইনের কাজ করেই ১৮ লাখ টাকার বাজেট শেষ হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যায় প্রকল্প। পরে বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রকল্পটি আবারও চালু করার জন্য ২০০৪ সালের ২৭ নভেম্বর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দরপত্র আহ্বান করে সংবাদ পত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এ কাজের জন্য ব্যয় ধরা হয় ৫ লাখ ৬৩ হাজার ৪শ’৮ টাকা। এ কাজ শেষে পরীক্ষামূলকভাবে পানিও উত্তোলন করা হয়। কিন্তু তাতে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক থাকায় পানি তোলা বন্ধ করে দেয়া হয়।আরডিএ’র সঙ্গে চুক্তির শর্তানুযায়ী জেস ফাউন্ডেশন পানি সরবরাহ করবে এবং গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করবে। এসময় গৃহীত নানা পরিকল্পনা, লাভ-ক্ষতি ও প্রকল্প বাস্তবায়নের বেড়াজালে আটকা পড়ে জনগুরুত্বপূর্ণ পানি সরবরাহ প্রকল্পটি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




  • ডিজাইনঃবেসিক নিউস২৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com