শনিবার, ২১ Jul ২০১৮, ০১:১৭ অপরাহ্ন

পাবনাবাসীর স্বপ্নের রেল ১৪ জুলাই চালু হচ্ছে

পাবনাবাসীর স্বপ্নের রেল ১৪ জুলাই চালু হচ্ছে

পাবনা প্রতিনিধি :
দীর্ঘ কয়েক যুগ অপেক্ষার পর অবশেষে পাবনাবাসীর স্বপ্নের রেল চালু হতে যাচ্ছে। আগামী ১৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ রেলের উদ্বোধন করবেন। এ নিয়ে চলছে উৎসবের আমেজ।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, পাবনার মানুষের একশ’ বছররের দাবি ছিল এই রেলপথ। ১৯১৪ সালে পদ্মা নদীর উপর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ চালু হলে সেই সময়ে দাবি উঠে ঈশ্বরদী থেকে পাবনা পর্যন্ত একটি লিংক রোড রেললাইনের। সেই সময় ব্রিটিশরা এই দাবি পূরণে প্রতিশ্রুতিও দেন। তবে সেই প্রতিশ্রুতি আর পরে বাস্তবায়ন হয়নি। দেশস্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৪ সালে আওয়ামীলীগ সরকার পাবনাবাসীর দীর্ঘ দিনের এ দাবি বাস্তবায়নে ঈশ্বরদী-ঢালারচর রেল প্রকল্প হাতে নেয়। সে সময় পাবনায় নদীকেন্দ্রীক অর্থনৈতিকব্যবস্থা গড়ে উঠলে স্থলপথে যাতায়াত ব্যবস্থা অরো শক্তিশালী করতে ঈশ্বরদী থেকে পাবনা হয়ে নগরবাড়ী পর্যন্ত রেলপথের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়। কিন্তু ১৯৭৫ সালে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান হত্যার পর প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যায়।
পরবর্তীতে ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে শহরের টাউনহল মুক্তমঞ্চ মাঠে এক ভিডিও কনফারেন্সে আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা পাবনার মানুষকে প্রতিশ্রুতি দেন আগামীতে আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করলে এই রেলালাইন নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১০ সালে আওয়ামীলীগ সরকার পাবনাবাসীর প্রাণের দাবি এ রেলপথ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। এ সময় নকশার কিছুটা পরিবর্তন এনে রেলপথটি ঈশ্বরদী থেকে পাবনা হয়ে বেড়া উপজেলার ঢালারচর পর্যন্ত নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
সে অনুযায়ী ২০১০ সালের ৫ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নিবার্হী কমিটির বৈঠকে এ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ৯৮২ কোটি ৮৬ লক্ষ ৫৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। পরবর্তীতে তা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬২৯ কোটি টাকা। ২০১৩ সালে ২ ফেব্রুয়ারি পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ মাঠের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।
আগামী ১৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাবনা পুলিশ লাইন মাঠে জনসভার আগে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রেনের উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আসাদুল হক এ তথ্য জানিয়েছেন। আসাদুল হক আরো জানান, ঈশ্বরদীর মাঝগ্রাম হয়ে ঢালারচর পর্যন্ত নতুন রেল নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় নবনির্মিত ঈশ্বরদী-পাবনা রেল সেকশনে ২৫ কিলোমিটারে রেলপথের নির্মাণ প্রক্রিয়া, নির্মিত সেতু কালভার্ট, রেলগেট-রেলক্রসিং, ট্রেন চলাচলের সিগন্যাল সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
তিনি জানান, মোট ৭৮ কিলোমিটার নতুন রেললাইন, বাকি ৫৩ কিলোমিটার দ্বিতীয় ধাপে শেষ হবে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে প্রকৌশলী-২ আরিফ আহম্মেদ জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফলক উন্মোচন করে উদ্বোধনের পর ট্রেনটি পাবনা এক্সপ্রেস নামে চলবে। উদ্বোধনের দিন ইঞ্জিনসহ ছয়টি বগি নিয়ে পাবনা থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত চলাচল করবে। পরবর্তীতে পাবনা-রাজশাহীর মধ্যে চলাচল করবে। প্রতিদিন ঈশ্বরদী- পাবনা-রাজশাহী-পাবনা-ঈশ্বরদীতে ৪’শ ২৩ যাত্রীধারণ ক্ষমতার এ ট্রেনে থাকবে এসি সিগ্ধা, চেয়ার কোচ, ননএসি ও শোভন।
ঈশ্বরদী থেকে প্রতিদিন ট্রেনটি সকাল ৫ টা ৪৫ ছেড়ে পাবনা পৌঁছাবে ৬ টা ৪৫ । এরপর পাবনা থেকে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে ৭ টা ১৫ তে ছেড়ে রাজশাহী পৌঁছাবে ৯ টা ৩৫ এ । এরপর রাজশাহী থেকে সন্ধ্যা ৭ টা ১৫ তে ছেড়ে পাবনা পৌঁছাবে রাত ৯ টা ১৫ তে। এরপর ট্রেনটি পাবনা থেকে রাত ৯ টা ৫০ ছেড়ে ঈশ্বরদী পৌঁছাবে রাত ১১ টায়।
দীর্ঘকাল অপেক্ষার পর রেল পাওয়ায় পাবনাবাসীর মধ্যে ব্যাপক আনন্দ উল্লাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ পাবনার এ দাবি পুরণ করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল রহিম লাল ও পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক প্রিন্স এক বিবৃতিতে ঈশ্বরদী-ঢালারচর রেল লাইন প্রকল্প বাস্তবায়ন করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




  • ডিজাইনঃবেসিক নিউস২৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com