প্রধানমন্ত্রীর উপহারের বাড়ি ওরা কেড়ে নিল, বিচার আল্লাহকে দিলাম’

leadnews দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল

নিউজডেস্ক

যশোরের চৌগাছায় আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পে ‘যার জমি আছে, ঘর নাই তার নিজ জমিতে গৃহনির্মাণ’ উপ-প্রকল্পের আওতায় বাড়ি বরাদ্দ পেয়েছেন নারায়নপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর (বাদেখানপুর) গ্রামের শওকত আলী। বাড়ির কাজও শুরু হয়। কোরবানি ঈদের কয়েকদিন পর নির্মাণাধীন সেই বাড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে ভেঙে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তবে কী কারণে বাড়িটি ভেঙে নেয়া হলো জানেন না শওকত আলীর পরিবার। তার স্ত্রী হাসিনা বেগমের দাবি, চাচাতো বোনের ছেলে ক্ষমতাধর। জমি কেনাবেচার দ্বন্দ্বে সেই ক্ষমতা তার ওপর প্রয়োগ করে গৃহহীন করা হয়েছে। আক্ষেপ করে তিনি বিচার আল্লাহর কাছে দেন।
শওকত আলী ও হাসিনা দম্পতির বাড়ি ভেঙে নেয়ায় গ্রামের মানুষও ক্ষুব্ধ। তবে কেউ ভয়ে মুখ খুলছেন না।
জানা গেছে, হাসিনা বেগমের চাচাতো বোনের ছেলে হাসান হাবিব (ডাক নাম তৌহিদ) কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। জমি বেচাকেনার বিরোধের জের ধরে তিনি স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবাদত হোসেনকে প্রভাবিত করে আশ্রয়ণ প্রকল্পের নির্মাণাধীন বাড়ি ভেঙে নিয়ে গেছেন।তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাসান হাবিব ও ইবাদত হোসেন।
সরেজমিনে চৌগাছা উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর (বাদেখানপুর) গ্রামের ভ্যানচালক শওকত আলীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, টিনের জরাজীর্ণ খুপড়ি ঘরে তার পরিবারের বসবাস। দুই ছেলে-মেয়েসহ চার সদস্যের পরিবার।
বাড়িত কথা হয় শওকতের স্ত্রী হাসিনা বেগমের সঙ্গে। তিনি বরাদ্দপ্রাপ্ত নির্মাণাধীন বাড়ি ভেঙে নেয়ার আদ্যোপান্ত জানান।
হাসিনা বেগমের অভিযোগ, বাহাদুরপুর (বাদেখানপুর) গ্রামে বেড়াতে গিয়ে হাসিনা বেগমকে একটি বাড়ির ব্যবস্থা করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন চাচাতো বোনের ছেলে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হাসান হাবিব। তার ভাই স্বপনকে দিয়ে পুরনো বাড়ির ছবি তুলে নিয়েছিলেন। পরে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বলে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাড়ি বরাদ্দ দেয়া হয় হাসিনার স্বামী শওকত আলীর নামে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *