বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৮:১৫ পূর্বাহ্ন

বন্যায় ১৫ গ্রাম প্লাবিত : বন্যায় ভেসে গেছে ১৫’শ পরিবারের ঈদ আনন্দ

বন্যায় ১৫ গ্রাম প্লাবিত : বন্যায় ভেসে গেছে ১৫’শ পরিবারের ঈদ আনন্দ

ফেনী সংবাদদাতা :
টানা বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ফেনীর ফুলগাজী বাজারসহ ১০টি গ্রাম এবং পরশুরামের পাঁচটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। মুহরী নদীর ফুলগাজীর ছয়টি অংশ ও পরশুরামে দুইটি অংশে ভাঙন তৈরি হয়েছে। মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরের ঠিক আগে এই দুর্যোগ গোটা এলাকার মানুষের মুখের হাসি কেড়ে নিয়েছে।
কৃষকরা জানান, ঈদ উৎসব দূরের কথা, এই এলাকার ১৫শ পরিবারের এখন ভিটেতে থাকাটাই দায়। মাঠে ফসলের ক্ষতি না হলেও আমনের বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। এ অবস্থায় আসছে মৌসুমের ফসল হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন তারা।
উপজেলা প্রশাসন ও ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে তিনটি নদী— মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনীয়া। তিন নদীই তাদের জীবনের জন্য অভিশাপ। গত চার দিনে দুই উপজেলার আটটি স্থানে বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে ১৫টি গ্রাম, নষ্ট হয়ে গেছে আমনের বীজতলা। আর দুই দিন পরই ঈদ। তবে নিজেদের বাড়িঘরেই থাকতে পারছেন না তারা। তাদের অনেকেই ছেলে-মেয়েদের পাঠিয়ে দিয়েছেন অন্য এলাকায় স্বজনদের বাড়িতে।
ক্ষতিগ্রস্তরা বলছেন, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ফুলগাজী সদর ইউনিয়ন ও পরশুরামের চিথলিয়া ইউনিয়ন। বাড়ি-ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এই দুই ইউনিয়নের মানুষদের। এ অবস্থায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা।
ফুলগাজী সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা সকিনা আক্তার বলেন, ‘আমাদের জন্য ঈদ আসেনি। ঘরে থাকতে পারছি না, আবার কিসের ঈদ। রাতে সাপের ভয়। থাকার ঘর, রান্না ঘরেও পানি। থাকা-খাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তাই কাটছে না।’
একই এলাকার আবুল হাসেম বলেন, ‘কৃষকদের আমনের বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। পানি দ্রুত না নামলে আবার নতুন করে লাগানো যাবে না।’
একই ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা নুরুল আলম বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদাসীনতার কারণে সারাবছর আমরা দুর্ভোগে থাকি। এটার স্থায়ী সমাধান দরকার।
এদিকে, জেলা প্রশাসক মনোজ কুমার রায় জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুদ রয়েছে। ঢলের কারণে কোনো পরিবারকে যেন কষ্ট করতে না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কোহিনুর আলম বলেন, ‘নদীর সন্নিকটে বাঁধ থাকায় বেড়ি বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। পানি সরে যাওয়ামাত্রই বাঁধটি সংস্কার করা হবে।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




  • ডিজাইনঃবেসিক নিউস২৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com