আমরা সত্য প্রকাশে আপোষহীন

আমাদের সাইটে আপনাকে স্বাগতম।

ভয়াবহ মহম্মদপুরে মধুমতির ভাঙন

1 min read

বিশেষ প্রতিবেদকঃ

মহম্মদপুরের মধুমতি নদীর পানি গত কদিনে অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় মধুমতির ভাঙনের তীব্রতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে নদীর একাংশ। জিও ব্যাগ ফেলেও রোধ হচ্ছে না এ ভাঙন। ভাঙনের মুখে রয়েছে মসজিদ, মন্দির, ঈদগাহ ও অসংখ্য দোকান-পাটসহ হাজার হাজার একর ফসলি জমি। এ পর্যন্তু উপজেলার ভাঙনকবলিত এলাকার ৮-১০ কিলোমিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

ফলে উপজেলার মানচিত্র থেকে ক্রমাগত হারিয়ে যাচ্ছে মহেষপুর, হরেকৃষ্ণপুর, ঝামা, আড়মাঝি, যশোবন্তপুর, কালিশংকরপুর, রায়পুর, মুরাইল, ধুপুড়িয়া, জাঙ্গালিয়া, গোপালনগর, রুইজানি, কাশিপুর, ধুলজুড়ি ও ভোলানাথপুর গ্রাম। গত কদিনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে নদীপাড়ের অর্ধশতাধিক ঘর-বাড়ি, গাছপালা ও ফসলি জমি।

হঠাৎ নদীতে পানি বৃদ্ধির কারণে ভয়াল আকার ধারণ করেছে এ ভাঙন। ফলে নদী তীরবর্তী বসবাসকারী মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে চরম আতঙ্ক। ভাঙনকবলিত এলাকা মানুষের দাবিতে মধুমতির ভয়াবহ ভাঙন রোধে মাগুরা পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরিভাবে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ সাপেক্ষে হরেকৃষ্ণপুর থেকে ঝামা প্রর্যন্তু ৩ শ মিটার এলকায় জিও ব্যাগ ফেললেও স্রোতের তীব্রতায় ভাঙনরোধ সম্ভব হচ্ছে না।

সরেজমিনে নদীভাঙন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সর্বস্ব হারানো অসহায় নারী-পুরুষের আহাজারি। আবার কেউ ভাঙনের সাথে পাল্লা দিয়ে দ্রুত কাঁচা-পাকা বাড়িঘরসহ প্রয়োজনীয় মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। বিক্রি করে দিচ্ছেন গাছপালা। চোখের সামনে ভিটেবাড়ি মধুমতিতে বিলীন হয়ে যেতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকে। কদিনের অব্যাহত নদী ভাঙনে মানুষ অসহায় হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছেন তারা। খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে অনেকে।

এ সময় রুইজানী গ্রামের স্মৃতি রানী বিশ্বাস (৪৬) নামের এক মহিলা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে আমাদের বাড়িঘর, গাছপালা ও চার একর ফসলি জমি। বাড়ি করার আর কোনো জমি নাই। তাই কদিন ধরে আমরা গাছতলায় ছাপড়া পেতে আছি কেউ আমাদের দেখতিও আসলো না। হরেকৃষ্ণপুরের জয়নাল আবেদিন জানান, নদী ভাঙনের ভয়ে আমরা রাত জেগে বসে থাকি। সর্বস্ব হারিয়ে আমরা এখন ভূমিহীন, কোথায় যাবো।

ক্ষতিগ্রস্ত গোপালনগর গ্রামের মফিজ উদ্দীন জানান, মধুমতির ভাঙনে এসব এলাকার অনেক পরিবার এখন নিঃস্ব। ভিটেমাটি হারিয়ে অন্যত্র পাড়ি জমিয়েছে। আবার অনেকে আশ্রয় নিয়েছে পরের জমিতে। তাছাড়া প্রতিবছর আপনারা ভাঙনের ছবি তোলেন, রিপোর্ট করেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনো খোঁজখবর রাখে না। এতে কোনো কাজ হয় না।

মাগুরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বহী প্রকৌশলী সরোয়ার হোসেন সুজন জানান, নদী ভাঙন রোধে আমরা কাশিপুর এলাকায় প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে ১৫০ মিটার বাধ নির্মাণ কাজ শেষ করেছি। ইতোমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ভাঙনরোধে জিও ব্যাগ ফেলানো হচ্ছে। নতুন করে বাধ নির্মাণ করতে আমরা পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু করব।

এ বিষয়ে মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসিফুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আবু আব্দুল্লাহেল কাফি বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সাথে কথা বলেছি। তাদের দাবিতে ইতোমধ্যে মাগুরা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। ভাঙনরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *