শনিবার, ২১ Jul ২০১৮, ০১:৫১ অপরাহ্ন

মিয়ানমারের সাথে গোপন চুক্তি জাতিসংঘের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে : টিআইবি

মিয়ানমারের সাথে গোপন চুক্তি জাতিসংঘের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে : টিআইবি

নিউজ ডেস্ক :
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে মিয়ানমার সরকার ও জাতিসংঘের ইউএনডিপি ও ইউএনএইচসিআর-এর মধ্যে সম্পাদিত গোপন সমঝোতা জাতিসংঘের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। একই সাথে গোপন সমঝোতা স্মারকের পূর্ণাঙ্গ তথ্য অবিলম্বে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
সোমবার এক বিবৃতিতে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এ দাবি জানান।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ফাঁস হওয়া তথ্যমতে উল্লেখিত সমঝোতা স্মারক রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির পূর্বশর্ত হিসেবে নিজ দেশে স্বাধীনভাবে চলাচল ও ‘মিয়ানামারের স্বাধীন নাগরিক’ হিসেবে তাদের অধিকার লাভের দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবির সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। এ ধরনের চুক্তি বাস্তবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনাকে পদদলিত করে তাদের চিরতরে বাংলাদেশের ওপর চাপিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্রের অংশ ছাড়া আর কিছুই নয়।”
টিআইবি বলছে, “সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে এই গোপন সমঝোতার পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ না করায় প্রত্যাবাসনসহ সার্বিকভাবে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ, বিশেষ করে সেনাবাহিনী কর্তৃক নির্যাতন বিষয়ে জাতিসংঘের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। যা মিয়ানমারে মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াং লি’র সাম্প্রতিক বক্তব্যেও প্রতিফলিত হয়েছে।”
টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক বলেন, “সম্পাদিত এই গোপন সমঝোতা স্মারক এবং তা প্রকাশে লুকোছাপা ও গড়িমসি সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ সফরে জাতিসংঘ মহাসচিবের দেয়া বক্তব্যের সাথে সাংঘর্ষিক ও পরস্পরবিরোধী; যেখানে তিনি ‘রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের আদি নিবাসী’ উল্লেখ করে অনুকূল পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে তাদের যথাযোগ্য মর্যাদায় ফিরিয়ে নেয়ার এবং সংঘটিত অপরাধের বিচারের দাবি জানিয়েছেন। এই ধরনের স্ববিরোধী ও নীতিবিবর্জিত গোপন সমঝোতা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে জাতিসংঘের ব্যর্থতাকেই তুলে ধরে এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় জাতিসংঘের আন্তরিকতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।”
সম্প্রতি রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের বেশ আগেই তাদের ওপর নির্যাতন ও গণহত্যা সংঘটিত হতে যাওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়ে আগাম একটি বিশেষজ্ঞ প্রতিবেদন জাতিসংঘের মিয়ানমার মিশন কর্তৃক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ধামাচাপা দেয়ার ঘটনার কথা উল্লেখ করে ড. জামান বলেন, “রোহিঙ্গা সংকটের মত জাতিগত নিধনসহ মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধে পর্যাপ্ত সুযোগের সদ্বব্যবহার না করে নিরব দর্শকের ভূমিকায় অবতীর্ণ থেকে বরং বাস্তবে নির্যাতিত জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক সহায়তা কার্যক্রমকে পুঁজি করে অর্থ সহায়তার সুবিধা অন্বেষণ জাতিসংঘের উদ্দেশ্য কিনা এ প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। জাতিসংঘের উচিৎ এসব প্রশ্নের উত্তরসহ মিয়ানমারের সাথে সম্পাদিত সমঝোতা স্মাবকের পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও ইতিপূর্বে গোপনকৃত বিশেষজ্ঞ প্রতিবেদন অবিলম্বে প্রকাশ করা।”

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




  • ডিজাইনঃবেসিক নিউস২৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com