✍ বিল্লাল হোসেন

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের প্রতি রোগীদের আস্থা ও ভরসা অনেক। কারণ সরকারি এ হাসপাতালটি উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। যশোরসহ আশপাশের অনেক জেলার রোগীরা এখানে আসেন উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার আশায়।

অভিযোগ উঠেছে, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছ থেকে চিকিৎসা নিতে এসে রোগীরা প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। নিজেদের অজান্তেই রোগীরা প্রতারিত হচ্ছেন।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আবুল কালাম আজাদ লিটু জানান, আন্তঃবিভাগ ও বহির্বিভাগে বিশেষজ্ঞের সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেয়া রয়েছে চর্চা করতে আসা চিকিৎসকদের।

হাসপাতালের প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসক হিসেবে কাজ করার আবেদন করেন আতিকুর রহমান খান, নুরজান্নাত সালাউদ্দিন খান স্বপন। আবেদন গ্রহণ করে তাদের প্রশিক্ষণের সুযোগ করা হয়। তারা বিশেষজ্ঞের সহকারী হিসেবে কাজ করবেন। নিজেরা কোনো রোগীর ব্যবস্থাপত্র দিতে পারবেন না। কিন্তু বাস্তবে এ নিয়মের কোনো বালাই নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এদের মধ্যে নুরজান্নাত বহির্বিভাগের ১২ নম্বর কক্ষে, আতিকুর রহমান খান ১২৩ নম্বর কক্ষে ও সালাউদ্দিন খান স্বপন করোনারি কেয়ার ইউনিটের জরুরি বিভাগে নিজেদের মতো করে দায়িত্ব পালন করছেন। বিশেষজ্ঞ ও বা সহকারী রেজিস্টারের অনুপস্থিতিতে তারা রোগীর ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন। তারা আবার আন্তঃবিভাগেও দায়িত্ব পালন করেন।

বিষয়টি জানার পর অনেক রোগী প্রশ্ন করেছেন, একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আর একজন প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রের মান কি এক হবে? চিকিৎসাসেবার নামে তাদের সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার গোরিনাথপুর গ্রামের আশানুর রহমান জানান, তিনি দীর্ঘদিন নানা সমস্যায় ভুগছেন। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা গ্রহণে কিছু হচ্ছে না। যে কারণে এ হাসপাতালে এসেছি উন্নত চিকিৎসার আশায়। অথচ ওই রোগীকে ব্যবস্থাপত্র দিয়েছেন প্রশিক্ষণার্থী নুরজান্নাত।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে রোগীরা ছুটে আসে না, মুমূর্ষু বা জটিল রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। যে কারণে শয্যার তুলনায় সব সময় দ্বিগুণেরও বেশি রোগী চিকিৎসাধীন থাকেন। আবার হাসপাতালে প্রতিদিন চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন দুই হাজারের বেশি রোগী। উন্নত চিকিৎসাসেবার আশায় রোগীরা এখানে আসেন। কিন্তু উন্নত চিকিৎসা তারা পাচ্ছেন না। এ অবস্থা চলতে থাকলে সরকারি এই হাসপাতালের প্রতি রোগীরা আস্থা হারিয়ে ফেলবেন।

বিষয়টি নিয়ে কথা হলে তত্ত্বাবধায়ক লিটু জানান, আবেদনের প্রেক্ষিতে তাদের প্রশিক্ষণের সুযোগ দেয়া হয়েছে। তারা বিশেষজ্ঞের সহকারী হিসেবে আন্তঃবিভাগ ও বহির্বিভাগে দায়িত্ব পালন করবেন। নিজেদের মতো করে রোগীর ব্যবস্থাপত্র তারা করতে পারবেন না। যদি কেউ নির্দেশনা অমান্য করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।