আমরা সত্য প্রকাশে আপোষহীন

আমাদের সাইটে আপনাকে স্বাগতম।

রোগীদের কষ্ট দেখে হাসপাতালে ১২টি এসি পাঠালেন ইউএনও

1 min read

হাসপাতালে রোগীদের দুরবস্থা দেখে নিজেকে অপরাধী মনে করেছেন সাতক্ষীরার তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইকবাল হোসেন। ঘোষণা দিলেন হাসপাতালে এসির ব্যবস্থা না করে নিজের রুমের এসি ব্যবহার করবেন না।

গত বৃহস্পতিবার রাতে তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইকবাল হোসেন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছে। এই রুমের মধ্যে থাকতে ভালো লাগছে না। হাসপাতালে অপারেশনের রোগী গরমের সঙ্গে লড়ছে। রাতের তালা আমাকে বদলে দাও। কাল থেকে আমার এসি রুম বন্ধ থাকবে। রোগীদের এসির ব্যবস্থা না করে এই এসি রুম ব্যবহার করব না। দয়া করে রুমে ঢুকে কেউ এসি চালাতে বলবেন না। হাসপাতালে এসির ব্যবস্থা হবে। কোনো ময়লা থাকবে না। জুতা বাইরে থাকবে। আর বাথরুম থেকে গন্ধ নয়, ঘ্রাণ আসবে।’

যে কথা সেই কাজ। অবশেষে তালা হাসপাতালে রোগীদের ব্যবহারের জন্য এসির ব্যবস্থা করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইকবাল হোসেন। রোববার বিকেলে এসিগুলো তালা হাসপাতালে এসে পৌঁছায়। সোমবার সকাল থেকেই এসিগুলো হাসপাতালে লাগানোর কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

তালা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মীর আবু মাউদ জাগো নিউজকে বলেন, প্রাথমিকভাবে দুটি ওয়ার্ডে ১২টি এসির জন্য চাহিদাপত্র দেয়া হয়েছে। আরেকটি ওয়ার্ডে পরবর্তীতে লাগানো হবে। এর মধ্যে চারটি এসি রোববার বিকেলে হাসপাতালে এসে পৌঁছেছে। সোমবার বাকিগুলোও চলে আসবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এগুলো পাঠিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইকবাল হোসেন ও আমার উদ্যোগে এটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ওয়ার্ডের রুমের মধ্যে থাইগ্লাস লাগানো ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। সোমবার সকাল থেকেই এসিগুলো লাগানোর কাজ শুরু হবে।

গত ২৯ জুলাই তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলা থেকে তালা উপজেলায় যোগ দেন ইকবাল হোসেন। যোগদানের পরই তিনি তালা সদরসহ গ্রামাঞ্চলের মানুষদের মধ্যে শৃঙ্খলা ফেরাতে কাজ শুরু করেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা, অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও অবৈধ পার্কিংরোধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ নানা উদ্যোগ নিয়েছেন।

হাসপাতালে এসি লাগানোর পরিকল্পনার বিষয়ে তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইকবাল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, আমার দুই সন্তান। একজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ে। আমি ও আমার পরিবার সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিই। আমার সন্তানকে তালা হাসপাতালে নিয়ে যাই চিকিৎসার জন্য। সেখানে চিকিৎসক আন্তরিক হয়ে চিকিৎসা করেছেন। কিন্তু পরিবেশটা আমার ভালো মনে হয়নি। এরপর আমি দোতলায় ওয়ার্ডে গিয়ে দেখি, ডেঙ্গুর ভয়ে মা-বোনেরা প্রচণ্ড গরমে মশারির মধ্যে রয়েছেন। তাদের ঘামে চারপাশ দুর্গন্ধ হয়ে গেছে। বাথরুম নোংরা। হাসপাতালের জনবল কম তাদেরও কিছু করার নেই।

তিনি বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে অপারেশনের ব্যবস্থা চালু করেছেন। যা অনেক উপজেলাতে হয় না। এরপর আমার মনে হয়েছে হাসপাতালের রোগীদের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য এসির ব্যবস্থা করা যায় কিনা। উদ্যোগ গ্রহণ করি আর সেটি বাস্তবায়ন হচ্ছে। অনেকেই ভেবেছিল এটা কথার কথা বলেছি, কিন্তু আমি কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী। রোববার বিকেলে চারটি এসি হাসপাতালে পৌঁছে গেছে। সোমবারের সকাল থেকে এসিগুলো লাগানোর কাজ শুরু হবে। তার মধ্যে মোট ১২টি এসি হাসপাতালে এসে পৌঁছাবে। তালা হাসপাতালকে আমি একটি মডেল হাসপাতাল করতে চাই। যাতে সাধারণ মানুষ প্রাইভেট ক্লিনিকে না গিয়ে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইকবাল হোসেন আরও বলেন, হাসপাতালের দুটি ওয়ার্ডে টিভির ব্যবস্থা করা ও বাইরে একটি ওয়েটিং রুমের ব্যবস্থা করা হবে। রোগী বা রোগীর স্বজনরা পরিবেশ দেখে নিজেই জুতা বাইরে রেখে প্রবেশ করবেন। বাথরুমগুলো থাকবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। হাসপাতালের মধ্যে ফুলের টব দেয়া হবে। এককথায় এটা হবে আধুনিক হাসপাতাল। সবার সহযোগিতায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে চাই। পরবর্তীতে সরকার যদি কখনো এটাকে মডেল হিসেবে নেয়, তবে সারাদেশেই ছড়িয়ে পড়বে এই মডেল। উপকৃত হবে সাধারণ মানুষ। প্রাইভেট ক্লিনিক ছেড়ে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হবে রোগীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *