ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে যথাসময়ে নির্বাচন গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

leadnews জাতীয়

নিউজডেস্কঃ–প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা দৃঢ়তার সাথে বলেছেন, তফসিল অনুযায়ী দেশে অবশ্যই নির্বাচন হবে। এ নির্বাচন সঠিক সময়ে এবং সুষ্ঠু হবে। নির্বাচন নিয়ে যে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবিলার ক্ষমতা সরকার ও আওয়ামী লীগের রয়েছে। তবে ২০১৪ সালের মতো নির্বাচন বানচালের নামে আবারো অগ্নিসন্ত্রাস, জ্বালাও-পোড়াও, জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে মানুষ হত্যার চেষ্টা করা হলে তা কঠোর হাতে দমন করা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি আরো বলেন, যতক্ষণ বেঁচে আছি দেশের মানুষকে আর আন্দোলনের নামে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার হতে দেব না। গতকাল সোমবার বিকালে গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সম্প্রতি সৌদি আরব সফরের অর্জন ও সফলতা তুলে ধরতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। লিখিত বক্তব্যের পর স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে হাস্যোজ্বলভাবেই প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভা ছোট না করার ইঙ্গিত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবগুলো মন্ত্রণালয়ের অধীনেই অনেকগুলো উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে। মন্ত্রিসভা ছোটো করলে সে কাজে ব্যাঘাত ঘটবে। তিনি চান উন্নয়ন কাজ যেন একদিনের জন্যও থেমে না থাকে। এ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচনের বেশি বাকি নেই। কাকে যে ছোটো করবো সেটাতো খুঁজে পাচ্ছি নাপ্রধানমন্ত্রী বলেন, খুনী, স্বাধীনতাবিরোধী, জঙ্গিবাদ, জাতির পিতার খুনি, ২১ আগস্টে গ্রেনেড হামলাকারী, দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়নরা মিলে ঐক্য করেছে। এখানে স্বার্থ ছাড়া তো রাজনীতি নেই। ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রথমে তারা ৫ দফা দাবি দিলো। পরে আবার হলো সাত দফা। আগামী নির্বাচনের আগে তাদের দাবি মোট কত দফায় দাঁড়ায় তা আগে দেখি। আর সরকারের সঙ্গে সংলাপের জন্য আমরা কোনো চিঠি পাইনি। ড. কামাল হোসেনের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ড. কামাল হোসেন কার সঙ্গে ঐক্য করেছেন? ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালানের দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ও মানিলন্ডারিং মামলার দণ্ডিত আসামি যে দলটির নেতৃত্ব দেয় (বিএনপি), সেই দলের নেতৃত্ব মেনে তিনি ঐক্য করেছেন। যিনি ওয়ান ইলেভেনের সময় খালেদা জিয়ার নামে এতিমের টাকা আত্মসাতের মামলা দিয়েছিলেন, তিনিও এই ঐক্যে রয়েছে। ড. কামাল হোসেন যুদ্ধাপরাধী, রাজাকার-আলবদর-আলশামস, যারা (বিএনপি-জামায়াত) পুড়িয়ে পুড়িয়ে শত শত মানুষকে হত্যা করেছে, তাদের সঙ্গে এক হয়েছেন। খুনি, দুর্নীতিবাজ, অর্থপাচারকারী, জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে তিনি ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। এখানে রাজনীতি কোথায়? এটা স্বার্থান্বেষীদের নিয়ে এই ঐক্য। তিনি আরো বলেন, ড. কামাল হোসেন যে সংবিধান প্রণয়ন করেছিলেন, সেই কামাল হোসেনই ৭২-এর সংবিধান নিয়ে আপত্তি আছে বলে জানিয়েছেন।
রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশন স্বাধীন। তারা প্রস্তুতি নিচ্ছে স্বাধীনভাবে। এখানে সরকারের কোনো ভূমিকা নেই। নির্বাচনের প্রাক্কালে নানামুখী ষড়যন্ত্র প্রসঙ্গে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ষড়যন্ত্র বাংলাদেশের চিরাচরিত বিষয়। আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কম হয়নি। কিন্তু সবকিছু মোকাবিলা করেই আমরা এগিয়ে যেতে পারছি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *