
শালিখা (মাগুরা):
মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোছাঃ হেনোয়ারা খাতুনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত নানা আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ প্রতিনিয়ত গণমাধ্যমে প্রকাশ হলেও অলৌকিক এক প্রশাসনিক ছত্রছায়ায় তিনি বহাল তবিয়তে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সংবাদকর্মীদের একের পর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও সংবাদ প্রকাশের পর দীর্ঘদিন পার হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মেলেনি কোনো তদন্ত প্রতিবেদন, কিংবা নেওয়া হয়নি দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা।
স্থানীয় সূত্র ও গণমাধ্যমকর্মীদের অভিযোগ, শিক্ষা কর্মকর্তার অনিয়ম ও পদমর্যাদার অপব্যবহার নিয়ে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের পরও প্রশাসনিক দপ্তরগুলোতে আবেদন-নিবেদন যেন ফাইলবন্দি হয়ে আটকে আছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কিংবা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয় পর্যন্ত বিষয়টি সম্পর্কে অবগত থাকলেও এখনো কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ বা সুনির্দিষ্ট তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রশাসনিক তদন্তের ক্ষেত্রে প্রায়শই এক কর্মকর্তা অন্য সহকর্মীর অনিয়ম আড়াল করার চেষ্টা চালান। এ ধরনের বিভাগীয় শিথিলতার কারণেই কোনো তদন্ত আলোর মুখ দেখছে না এবং পুরো প্রক্রিয়াটি স্থবির হয়ে পড়েছে।
অভিযুক্ত এই কর্মকর্তার অপকর্মের বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ক্রমাগত নিষ্ক্রিয়তায় চরম অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে শালিখা উপজেলার শিক্ষক সমাজ ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে। একজন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় উঠলেও আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে শালিখার সচেতন নাগরিক সমাজ ও ভুক্তভোগীরা ঊর্ধ্বতন কতৃর্পক্ষ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দৃষ্টি আকর্ষণ করে নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে উক্ত কর্মকর্তার যথাযথ বিচারের দাবি জানিয়েছেন।