শুক্রবার, ২০ Jul ২০১৮, ১২:১৮ অপরাহ্ন

তাইওয়ান প্রণালীতে মার্কিন রণতরী, টার্গেট চীন

তাইওয়ান প্রণালীতে মার্কিন রণতরী, টার্গেট চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
সাম্প্রতিক একটি ঘটনায় ওয়াশিয়টন এবং বেইজিংয়ের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। তা হলো মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি ডেস্ট্রয়ার তাইওয়ান প্রণালীর উদ্দেশে যাত্রা করেছে। মার্কিন নৌবাহিনীর একজন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। খবর সিএনএন-এর।
ইউএসএস মুস্তিন ও ইউএসএস বেনফোল্ড যুদ্ধজাহাজ দুটি উত্তরের নেতৃত্বে রয়েছে বলে জানিয়েছেন একজন সরকারি কর্মকর্তা। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে ইউএসএস জন এস ম্যাককেইন সর্বপ্রথম এই প্রাণালী অতিক্রম করে।
এই পদক্ষেপের ফলে, ট্রাম্প প্রশাসন ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য, উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে বিভিন্ন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির খবর সংবাদমাধ্যমে আসে।
মার্কিন নৌবাহিনীর প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন চ্যার্লি ব্রাউন এই চ্যানেল দিয়ে জাহাজ চলাচলকে একটি রুটিন ট্রানজিট কাজ বলে মন্তব্য করেন।
ব্রাউন বলেন, মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ দক্ষিণ চীন সাগর এবং পূর্ব চীন সাগরের মধ্যে চলাচলের জন্য তাইওয়ান প্রণালী দীর্ঘ দিন থেকেই ব্যবহার করে আসছে।
বেইজিং তাইওয়ান প্রণালী দিয়ে ক্রমবর্ধমান মার্কিন সেনাবাহিনীর জাহাজ আসা যাওয়ার ব্যাপারে উদ্বিগ্ন প্রকাশ করেছে। তারা এব্যাপারে স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপ তাইওয়ানকে দোষারোপ করছে। চীনের তাইওয়ানকে একটি বিচ্ছিন্নতাকামী অংশ হিসেবেই দেখে আসছে। ২০০৭ সালের আগে মার্কিন বিমানবাহিনী এই এলাকা দিয়ে বিমানবাহী কোন রণতরী নিয়ে যাতায়ত করতে পারতো না।
চীন এই অঞ্চলে নিজেদের আধিপত্য বাড়াতে সেনা উপস্থিতি বাড়িয়েছে। জানুয়ারী থেকে এই অঞ্চলে বিমানবাহী রণতরী প্রেরণ করেছে। চীনের সেনাবাহিনী সম্প্রতি এ অঞ্চলে বড় ধরণের সেনা মহড়া পরিচালনা করছে।
বিশ্লেষকরা এই সামরিক মহড়াকে যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ানের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান সম্পর্ককে সাবধানবাণী হিসেবেই দেখছেন।
৭০ বছর আগে চীনের গৃহযুদ্ধের পর থেকেই চীন ও তাইওয়ানে আলাদা সরকার ব্যবস্থায় পরিচালিত হয়ে আসছে। যদিও বেইজিং এবং তাইপে উভয়েই তাইওয়ান দ্বীপকে চীনের অংশ বলেই মনে করে। চীনের কমিউনিস্ট সরকার তাইওয়ানকে বিচ্ছিনতাবাদী প্রদেশ হিসেবে গণ্য করে। তারা মনেকরে তাইওয়ান অবশ্যই পুনরায় চীনের মূল ভূখন্ডের সাথে একত্রিত হবে। সেটা জোর করেই হোক বা স্বাভাবিকভাবেই হোক।
কূটনীতিক সম্পর্কে ঘাটতি থাকা স্বত্তেও এই অঞ্চলে তাইওয়ান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী। ট্রাম্প প্রশাসন ওয়াশিংটন ও তাইপের মধ্যকার সম্পর্ক গড়তে বিভিন্ন ধরণের চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট যিনি নির্বাচিত হওয়ার পর তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে অভিনন্দনসূচক ফোন কল পেয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্র ‘তাইওয়ান রিলেশন এক্টে’র অধীনে তাইওয়ানের কাছে বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি করছে। এসব কর্মকাণ্ডে বেইজিং সব সময়ই নিন্দা জানিয়ে আসছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




  • ডিজাইনঃবেসিক নিউস২৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com