শুক্রবার, ২০ Jul ২০১৮, ১২:৫০ অপরাহ্ন

পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে খরচ বাড়ছে

পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে খরচ বাড়ছে

নিউজ ডেস্ক :
পানি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আর্থসামাজিক উন্নয়ন প্রকল্পে প্রায় একশ কোটি টাকা খরচ বাড়ছে। মূল ব্যয় ৫৬৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকা থেকে এই প্রকল্পের সংশোধিক ব্যয় ধরা হচ্ছে ৬৬৩ কোটি ৮ লাখ টাকা। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে প্রকল্পটির সংশোধনী প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে। এরই মধ্যেই অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ করা হয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী বৈঠকে উপস্থাপনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রকল্পটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য এ এন সামসুদ্দিন আজাদ চৌধুরী সারাবাংলা’কে বলেন, সংশোধিত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উপকূলীয় অঞ্চলে দক্ষ পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও পোল্ডারগুলো ফসল, মৎস্য চাষ ও প্রাণীসম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধি করে এলাকায় গ্রামীণ জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা সম্ভব হবে।
প্রকল্প সংশোধনের কারণ হিসাবে প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, প্রকল্প এলাকা পরিবর্তন, নতুন অংশ, যেমন— ভূমি অধিগ্রহণ, কালভার্ট নির্মাণ, ড্রেনেজ পাইপ সরবরাহ, পাম্প শেড নির্মাণ, কিছু অংশের পরিমাণ ও ব্যয় বৃদ্ধি প্রভৃতি কারণে ব্যয় বেড়েছে। প্রকল্পের মেয়াদও দুই বছর বাড়ানো হয়েছে। প্রকল্পটির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস সরকারের যৌথ অর্থায়নে ২০০৩ সালের নভেম্বরে ২০১১ সালের জুন পর্যন্ত সমন্বিত অংশগ্রহণমূলক টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রকল্প (ইপসাম) শীর্ষক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়। এ কর্মসূচির সফলতা ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় খাদ্য নিরাপত্তা, ব্যবসা উন্নয়ন সম্বলিত একটি সমন্বিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রোগ্রাম ডক্যুমেন্ট তৈরি করা হয়, যা ব্লু গোল্ড প্রোগ্রাম নামে অভিহিত করা হয়।
ব্লু গোল্ড প্রোগামটি দু’টি সংস্থা— বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বিডব্লিউডিবি) ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের (ডিএই) পৃথক দু’টি ডিপিপির মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে। বিডব্লিউডিবি প্রধান বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসাবে পানি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কর্মসূচিসহ সার্বিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে সমন্বয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খাদ্য নিরাপত্তার কর্মসূচির আওতায় কৃষি সম্প্রসারণ সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এ ছাড়া খাদ্য নিরাপত্তায় প্রাণি ও মৎস্য সম্পদ উন্নয়নের বিষয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর ( ডিওএল) ও মৎস্য অধিদফতর (ডিওএফ) নিয়োজিত আছে।
মূল প্রকল্পটি মোট ৫৬৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকা খরচে ২০১৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য ২০১৩ সালের ৩০ জুলাই একনেকে অনুমোদিত হয়। প্রকল্প এলাকা বাড়ানো, ভূমি অধিগ্রহণসহ কিছু নতুন অংশের অন্তর্ভুক্তি এবং কিছু অংশের পরিমাণ ও ব্যয় হ্রাস-বৃদ্ধি এবং প্রকল্পের মেয়াদ ২ বছর বৃদ্ধি অর্থাৎ ২০১৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করে প্রথম সংশোধনী প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমগুলো হচ্ছে— ৩৩৬ জন বৈদেশিক পরামর্শক, ৩ হাজার ৩৬৯ জন দেশীয় পরামর্শক, ৭ হাজার ৬১৯ জন দেশীয় সাপোর্ট স্টাফ, ৩১টি গেটসহ ড্রেনেজ নির্মাণ, ১৭টি গেটসহ ড্রেনেজ আউটলেট নির্মাণ, ২৩৫টি আউটলেট পুনর্বাসন, ১৮৬টি ফ্ল্যাসিং পুনর্বাসন, ৮ কিলোমিটার তীর সংরক্ষণ কাজ, ৩৩০ কিলোমিটার বাঁধ সংস্কার, ৩২টি পানি ব্যবস্থাপনার জন্য কালভার্ট নির্মাণ, ৩৪ দশমিক ৫০ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণ, ৬টি পাম্প শেড নির্মাণ এবং ৯ হাজার মিটার ড্রেনেজ পাইপ সরবরাহ করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




  • ডিজাইনঃবেসিক নিউস২৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com