সোমবার, ২৫ Jun ২০১৮, ০৮:০৮ পূর্বাহ্ন

কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

কক্সবাজার সংবাদদাতা :
বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে কক্সবাজারের সঙ্গে টেকনাফের সড়ক যোগাযোগ। ঢলের পানিতে ভাসছে কক্সবাজারের ঈদগাঁওসহ চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার অন্তত ৩৫টি ইউনিয়ন। নিচু এলাকার ৫০ হাজারের বেশি বসতঘরে পানি উঠেছে। বন্যার্তদের জন্য খোলা আশ্রয় কেন্দ্রে চলছে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ।
অতিবৃষ্টির ফলে জেলার মিঠাপানির তিন নদী চকরিয়ার মাতামুহুরি, ঈদগাঁওয়ের ফুলেশ্বরী ও কক্সবাজারের বাঁকখালীতে নেমেছে পাহাড়ি ঢল। ঢলের তীব্রতায় ভেঙে গেছে ঈদগাঁওয়ের নদীর বাঁশঘাটা ও পোকখালী এলাকার বাঁধ। এতে প্লাবিত হচ্ছে বৃহত্তর ঈদগাঁওয়ের পোকখালী ও ইসলামাবাদ এলাকার বেশ কিছু গ্রামের রাস্তা-ঘাট, বাসা-বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ফসলের মাঠ। একইভাবে মাতামুহুনি নদীতে পহাড়ি ঢল নামায় প্লাবিত হয়েছে চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলা।
অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে সদর উপজেলার ঈদগাঁওসহ উপজেলার অভ্যন্তরীণ জিদ্দবাজার-মানিকপুর সড়ক, চিরিঙ্গা-বদরখালী সড়ক, কেবি জালাল উদ্দিন সড়ক ও বরইতলি-মগনামা সড়কসহ কয়েকটি আঞ্চলিক সড়কের উপর দিয়ে ঢলের পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে গ্রামীণ সড়কে যান চলাচল একেবারে বন্ধ। আঞ্চলিক সড়কে জীবন ঝুঁকি নিয়ে অল্প সংখ্যক গণপরিবহণ চলছে। এসব এলাকার অধিকাংশ বিদ্যালয়ে ঢলের পানি প্রবেশ করছে।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান বলেন, ‘আমি বরইতলী ও কাকারা ইউনিয়নে সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। বন্যাকবলিত পরিবারগুলোকে প্রাথমিকভাবে শুকনো খাবার দিতে সকল চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিয়েছি। চকরিয়ার বন্যার ব্যাপারে জেলা প্রশাসককে অবহিত করে প্রয়োজনীয় জরুরি ত্রাণ দেওয়া হবে।’
চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ জাফর আলম বলেন, বন্যাকবলিত কোন মানুষকেই না খেয়ে থাকতে হবেনা। সরকারি বরাদ্দ আসতে বিলম্ব হলে আমি নিজেই প্লাবিত এলাকায় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছিয়ে দেব।
আবহাওয়া অধিদফতর কক্সবাজার স্টেশনের কর্মকর্তা মুজিবুল হক জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে থেমে থেমে বর্ষণ হচ্ছে। দিন-রাত বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস মতে এভাবে বর্ষণ আরও দুদিন অব্যাহত থাকতে পারে। সঙ্গে পাহাড় ধসেরও সম্ভাবনা রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবার্হী প্রকৌশলী সাবিবুর রহমান বলেন, বেশি বৃষ্টির ফলে চকরিয়ার মাতামুহুরী নদীর তীরের বেশ কিছু অংশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সেখানে ভাঙন ঠেকানো র কাজ চলছে। তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ঝুঁকি রয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জানান, অতিরিক্ত বৃষ্টিতে পাহাড় ধসসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে স্থানীয়দের রক্ষার্থে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং, নিরাপদ স্থানে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




  • ডিজাইনঃবেসিক নিউস২৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com