• Sun. Feb 25th, 2024

Basic News24.com

আমরা সত্য প্রকাশে আপোষহীন

বাধা উপেক্ষা শোডাউন বিএনপির

Bybasicnews

Oct 23, 2022

যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ♦ রাস্তায় রাতযাপন ♦ হেঁটেই সমাবেশে যোগদান ♦ আওয়ামী লীগ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ভাঙচুর গুলিবিদ্ধ ১ ♦ মিছিলের নগরী খুলনা ♦ বিভিন্ন এলাকায় সরকারি দলের সশস্ত্র অবস্থান ♦ আন্দোলন করে সরকারকে বিদায়ের হুমকি মির্জা ফখরুলের

খুলনায় গতকাল বিএনপির সমাবেশ। ভিডিও দেখতে কিউআর কোড স্ক্যান করুন – বাংলাদেশ প্রতিদিন

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে গুলি করা হচ্ছে, হামলা করা হচ্ছে। বাধা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বাধা দিয়ে আন্দোলন দমন করা যাবে না। জনগণের অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এ সরকারের পতন ঘটানো হবে।

গতকাল বিকালে খুলনায় সোনালী ব্যাংক চত্বরে বিএনপির বিশাল বিভাগীয় গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি, জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, গুলি করে নেতা-কর্মীদের হত্যার প্রতিবাদ, নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে এ গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাগেরহাট, চুয়াডাঙ্গা, যশোর, ঝিনাইদহ, খুলনা, সাতক্ষীরা, নড়াইল, মেহেরপুর, মাগুরা ও কুষ্টিয়া থেকে দলীয় নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।বিশাল শোডাউন, পথে পথে বাধা : বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় গোটা সমাবেশস্থল। এ গণসমাবেশ ঘিরে গতকাল খুলনায় বড় রকমের সরকারবিরোধী শোডাউন করল বিএনপি।

১০টি আসনও পাবে না সরকার : গণসমাবেশে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, আওয়ামী লীগ জোর করে ক্ষমতায় থাকতে চায়। জনগণকে বঞ্চিত করে বিনা ভোটে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে তারা ১০টি আসনও পাবে না। তাই আগামী জাতীয় নির্বাচন ঘিরে শেখ হাসিনার সরকার নতুন পাঁয়তারা শুরু করেছে। পরাজিত হওয়ার ভয়ে নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে ভয় পায় এ সরকার। তিনি বলেন, হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে সরকার এখন বলছে দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি শুনতে পাই। দেশকে নরকে পরিণত করেছে এ সরকার। ২০২৩ সালের নির্বাচনকে আবারও আগের কায়দায় করার চেষ্টা করছে। নির্বাচন কমিশনকে তো ডিসি-এসপিরাই মানে না। তিনি বলেন, দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। জনগণের অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মানবিক বাংলাদেশ ফিরিয়ে আনতে রাজপথেই ফয়সালা করতে হবে। সমাবেশে মির্জা ফখরুল সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, অনেক ক্ষতি করেছেন, ভালো অর্জনগুলো ধ্বংস করে দিয়েছেন। মেগা প্রকল্পের নামে মেগা লুট করেছেন। শেয়ারবাজার লুট করেছেন। ব্যাংকব্যবস্থা লুট করে পাচার করেছেন। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ধ্বংস করেছেন। অনেক করেছেন আর নয়, এবার পদত্যাগ করুন। তিনি বলেন, এ দেশে আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো নির্বাচন সফল হতে পারে না। সে কারণে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া কোনো ব্যবস্থা এ দেশের মানুষ মেনে নেবে না। মির্জা ফখরুল বলেন, এরাই একদিন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য দাবি করেছিল। ১৭৩ দিন হরতাল করেছিল। দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে খালেদা জিয়া সেই দাবি মেনে নিয়েছিলেন। আজকে তারাই চক্রান্ত করে বিচার বিভাগকে দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করিয়েছে। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছে। এ সরকার সংবিধান লঙ্ঘন করেছে, মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। সমস্ত বিচার বিভাগকে দলীয়করণ করেছে। শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে। বিএনপি নেতা-কর্মীদের নামে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সমস্ত মামলা প্রত্যাহার করুন। গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি দিন। অন্যথায় পালাবার পথ খুঁজে পাবেন না। তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, মানে মানে সরে পড়ুন। নিরাপদে চলে যান। অন্যথায় জনগণ অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আপনাদের পরাজিত করবে।

সমাবেশে পুলিশকে জনগণের সফঙ্গ থাকার আহ্বান জানিয়ে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, জনগণের ইস্যুতে আন্দোলন করতে গিয়ে পাঁচজন জীবন দিয়েছেন। বিদেশি শক্তি আর এ সরকারের সঙ্গে নেই। সরকারের পতন ঠেকিয়ে রাখার ক্ষমতা কারও নেই। জনগণ ধাক্কা দিয়ে সরকারকে ফেলার সময় কাছাকাছি। নিতাই রায়চৌধুরী বলেন, বিএনপির সমাবেশে বাধা দিয়েও ঠেকাতে পারেনি। সমাবেশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে সরকারের পেটোয়া বাহিনী ও পুলিশ। কিন্তু লাভ হয়নি। খুলনা বিভাগের প্রান্তরে প্রান্তরে জনস্রোত সৃষ্টি হয়েছে। খুলনা মহানগরী বিএনপির আহ্বায়ক শফিকুল আলম মনার সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তৃতা করেন বিএনপি নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, শামসুজ্জামান দুদু, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, মশিউর রহমান, মেহেদী আহমেদ রুমি, অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, রকিবুল ইসলাম বকুল, ড. ওবায়দুল ইসলাম, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, জয়ন্ত কুমার কন্ডু, শামীমুর রহমান, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *