• Sun. Apr 21st, 2024

Basic News24.com

আমরা সত্য প্রকাশে আপোষহীন

মুসলিম বিশ্বের গৌরবময় ব্যক্তিত্ব: অধ্যাপক ড. সৈয়দ আলী আশরাফ (রহ.)আমার মাগুরা আলোকদিয়ার গৌরব।

Bybasicnews

Feb 4, 2023

মাগুরা নিজস্ব প্রতিনিধি।। ড. সৈয়দ আলী আশরাফ একাধারে একজন কবি, সাহিত্যিক, সাহিত্য সমালোচক, লেখক, প্রাবন্ধিক, সম্পাদক, ইসলামী শিক্ষাবিদ, দার্শনিক, ইসলামিক স্কলার, সফল সংগঠক, বিশ্বমানের একজন শিক্ষক, বহু ভাষার পন্ডিত, বিশেষ করে শিক্ষার ইসলামিকরণের অগ্রনায়ক ও পথিকৃৎ। পাশাপাশি তিনি একজন আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব ও মহান সূফি সাধক ছিলেন। সৈয়দ আলী আশরাফ গত শতাব্দীর একজন শ্রেষ্ঠ মুজাদ্দিদ বা শিক্ষা সংস্কারক ছিলেন তাতে কোন সন্দেহ নেই। সৈয়দ আলী আশরাফ মুসলিম বিশ্বের এক বিরল ও অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব। তিনি শুধুমাত্র শিক্ষার ক্ষেত্রে ধর্মীয় ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয় সাধন করেননি, পাশাপাশি তিনি তার ব্যক্তি জীবনেও এই সমন্বিত শিক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়েছিলেন। যার ফলে তিনি একদিকে যেমন ছিলেন বাংলা ও ইংরেজি সাহিত্য গগনের উজ্জ্বল নক্ষত্র অপরদিকে আধ্যাত্মিকতা ও সূফিবাদের প্রবাদ পুরুষ নামে সুখ্যাত। এখানেই সৈয়দ আলী আশরাফ স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী এবং অন্যান্য কবি, সাহিত্যিক, দার্শনিক ও পন্ডিতদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। তিনি আধুনিক তথা পাশ্চাত্য শিক্ষা ও ধর্মীয় তথা ইসলামী শিক্ষার দুই আঙ্গিনায় সুদীর্ঘ সময় সমান্তরালভাবে বিচরণের ফলে বিপরীতমুখী শিক্ষার এই দুই ধারাকে একই সূত্রে গেঁথে একটি পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা ব্যবস্থা মুসলিম বিশ্বকে উপহার দিয়েছেন। তাইতো মাসিক মদিনার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক মাওলানা মহিউদ্দিন খান সৈয়দ আলী আশরাফ এর শিক্ষাদর্শন সম্পর্কে লিখেছেন; “এটি এমন একটি স্বতন্ত্র শিক্ষা দর্শন, যে দর্শন মুসলিম উম্মার বিগত ১৪ শত বছরের সঞ্চিত প্রজ্ঞার ঐতিহ্য হজম করে আধুনিক পদ্ধতির মধ্য দিয়ে পরিবেশিত হচ্ছে নতুন প্রজন্মের কাছে”।

এরকম একজন মহান ব্যক্তিত্ব, সুফি সাধক, ক্ষনজন্মা ও যুগের মুজাদ্দিদ বা সংস্কারক, মুসলিম বিশ্বের গৌরব, কৃতিমান ব্যক্তিত্ব আজ থেকে ৯৯ বছর পূর্বে ৩০ জানুয়ারি ১৯২৪ সালে সৈয়দ আলী হামিদ ও সাইয়েদা কামরুননেগারের কোলকে আলোকিত করে সৈয়দ আলী আশরাফ নামক এক মহান ব্যক্তির আগমন ঘটে এই ধরার পৃষ্ঠে।

আজকের এই দিনে সৈয়দ আলী আশরাফ এর এই পৃথিবীতে আগমন উপলক্ষে তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরা হলো।

জন্ম: ৩০জানুয়ারি, ১৯২৪, আগলা, নবাবগঞ্জ, ঢাকা। পৈত্রিক নিবাস: আলোকদিয়া, মাগুরা বাংলাদেশ। পিতা: সৈয়দ আলী হামেদ। মাতা: সৈয়দা কামরুন নিগার খাতুন।

শিক্ষা: স্কুল: আরমানিটোলা ইংরেজি বিদ্যালয় ১৯৩২-১৯৪০ কলেজ: ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজ (ঢাকা কলেজ) ১৯৪০-১৯৪২।

উচ্চশিক্ষা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৪৫ সালে ইংরেজিতে অনার্সে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান এবং ১৯৪৬ সালে একই বিষয়ে এমএ পাস করেন। তিনি ১৯৫২ সালে বৃটেনের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে অনার্স পাশ করেন এবং একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৪ সালে English poetry and it’s Audience (1900-1950) বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

পেশা: তিনি ১৯৪৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে লেকচারার হিসেবে যোগদান করেন। তিনি ১৯৫৫-৫৬ সাল পর্যন্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগের প্রধান ছিলেন। তিনি ১৯৫৬-৭৩ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান করাচি বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজি বিভাগের প্রফেসর ও প্রধান ছিলেন। তিনি ১৯৭৪-১৯৮৪ সাল পর্যন্ত সৌদি আরবের কিং আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রফেসর ও প্রধান ছিলেন। তিনি ১৯৭১ সালে আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১৯৭৪ সালে কানাডার নিউ ব্রাঞ্চ উইক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং প্রফেসর এবং ১৯৮২-১৯৯২ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা বিভাগের ভিজিটিং প্রফেসর ছিলেন।

তিনি ১৯৯০-১৯৯৮ সাল পর্যন্ত কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা অনুষদের সদস্য ছিলেন। তিনি সিনিয়র মেম্বার ছিলেন, ফিট্জ্ উইলিয়াম কলেজ, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়।

তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাসোসিয়েট ক্লেয়ার হল এর স্থায়ী সদস্য ছিলেন।

তিনি ১৯৭৩-১৯৭৪ সাল পর্যন্ত ফেলো, ক্লেয়ার হল, ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়।

তিনি ১৯৮২-১৯৮৪ সাল পর্যন্ত ফেলো, উলফ্সন কলেজ, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়। তিনি বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় “দারুল ইহসান” বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও ভাইস চ্যান্সেলর ছিলেন। তিনি দারুল ইহসান ট্রাস্ট এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি বৃটেনের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামিক একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ছিলেন।

তিনি ‘আশরাফ চেরিটেবল ট্রাস্টে’ এর প্রতিষ্ঠাতা, একক ট্রাস্টি ও চেয়ারম্যান ছিলেন।

তিনি আধ্যাত্বিক সংগঠন ‘জামাতে মদিনা’ এর আজীবন আমির ছিলেন।

তিনি ১৯৪৩-৪৪ সালে পূর্ব পাকিস্তান সাহিত্য সংসদের সহকারী সম্পাদক ছিলেন।

তিনি ১৯৪৪-১৯৪৫ সাল পর্যন্ত সম্পাদক ছিলেন এবং তিনি ১৯৪৫-৪৭ সাল পর্যন্ত সহ-সভাপতি ছিলেন।

তিনি বাংলা একাডেমীর আজীবন সদস্য ছিলেন এবং লিবার্টি ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন।

সৈয়দ আলী আশরাফের গ্রন্থসমূহ:

কবিতা: চৈত্র যখন (১৯৫৭) প্রথম গ্রন্থ। বিসংগতি (১৯৭৪), হিজরত ১৯৮৪), রুবাইয়াতে জহীনি(১৯৯১), প্রশ্নোত্তর (১৯৯৬), রূপবাংলা (অপ্রকাশিত)।

অনুবাদ: ইভানকে ক্লেয়ারগল (১৯৬০) (প্রেমের কবিতা, সৈয়দ আলী হাসান এর সাথে যৌথ)।

গদ্য: কাব্য পরিচয় ১৯৫৭ দ্বিতীয় মুদ্রণ যন্ত্রস্থ), নজরুল জীবনে প্রেমের এক অধ্যায় (দ্বিতীয় মুদ্রণ ১৯৯৫), বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ঐতিহ্য (১৯৬২)। সংসদ যুগ: পূর্ব পাকিস্তান সাহিত্য সংসদের ইতিকথা, (যন্ত্রস্থ) অন্বেষা (আধ্যাত্মিক জীবনের বর্ণনা, অপ্রকাশিত) সাহিত্য বিচার।

সংকলন: কাব্য সংকলন (১৯৬৭) বাংলা একাডেমি। সৈয়দ আলী আশরাফের কবিতা (১৯৯১) শিল্পতরু প্রকাশনী।

সম্পাদনা (বাংলা): দিলরুবা সাহিত্য পত্রিকার প্রথম সম্পাদক।

হামদ: আল্লাহ প্রশস্তি কবিতা (অপ্রকাশিত)।

Editing English

Muslims & islamic education:

General editor and planner of 6 books in “Islamic education series”:

1.Crisis in Muslim Education, 1979.

2. Aims and Objectives of Islamic Education.

3. Social and Natural Sciences: the Islamic Perspective, 1984.

4. Curriculum and Teacher Education.

5. Philosophy, Literature and Fine Arts.

6. Education and Society, 1982.

সৈয়দ আলী আশরাফের ইংরেজি গ্রন্থ সমূহ;

General editor and planner of three books in Islamic monograph series 1984.

1. New horizons in Muslim education 1984.

2. the concept of Islamic University 1984.

3. Introduction to Islamic sociology 1984.

4. Religion and education, Islamic academy Cambridge 1984.

5. The prophets

6. The Islam

Language and literature

T.S. Eliot through Pakistani eyes,ed. English department Karachi University 1968.

The new harmony and ontology of Pakistani poetry in English English department Karachi University 1964.

The other harmony: A book of verse by Pakistani poets in English, 1968.

Literature, society and culture in East Pakistan Karachi University 1973.

Muslim traditions in Bengali literature, the Islamic Foundation Dhaka, 1982.

Homage to nazrul Islam, Karachi University, 1972.

The perfect: children’s book.

Historical and critical background of historical tragedy in Nineteenth century (Unpublished).

Journals: editor of the following journals;

Muslim education quarterly. Cambridge, UK published by the Islamic academy, Cambridge since October 1983.

Islamic education quarterly, Mecca,

( 2 issues); world centre for Islamic education 198-82.

Taj, Karachi, Islamic education society, Karachi, 1967-72.

Venture, (at first a quarterly, later a bi-annual journal of English language and literature), department of English, Karachi University, 1960 to 1972.

Articles published in international anthologies

Encyclopaedia of world drama (Bengali drama)

National identity (Australia)

(Impact of English literature on Bengali literature)

FILLAM Congress Cambridge collections of articles poetry and its audience in England 1900- 1950: an introductions.

Main conferences attended

Islamic education international conferences attended by Muslim scholars only

First world conference on Muslim education Mecca 1977 sponsored biking Abdul Aziz University Jeddah Mecca acted as planner and organising secretary.

Second world conference on Muslim education Islamabad Pakistan 1980 on curriculum designs acted as planner and helper.

Third world conference on Muslim education Dhaka Bangladesh 1981 on text book preparation acted as planner and helper member sitting committee.

Fourth world conference on Muslim education Jakarta Indonesia 1982 1 evaluation acted as planner and helper member sitting committee fifth world conference on Muslim education Cairo is it 1987 on evaluation acted as planner and helper member sitting committee conference on Islamic education Jordan 1989 organised in Cambridge.

ISISCO conference on Islamic education robot Morocco 1990.

An integrated education system in multifree and multi cultural country Kuala Lumpur 1990.

Education semiars (National and international and inter religious seminars as director general of the Islamic academy in cooperation with the department of education of Cambridge University);

Region and education in multi-faith, multi-cultural society, 1984.

teaching of Islam in British schools, 1985. resources for teaching of Islam in British schools, 1986.

Swan committee report: an evaluation from the Islamic point of view, London, 1986.

Faith is the basis of education in a multi-faith multi-cultural country: A dialogue between Christians and Muslims, 1990.

Faith is a basis of education in a multi-faith multi-culture country -II-a conference where educationalists of six religions meet, 1991.

International workshop on teaching of social studies and natural sciences from the Islamic point of view, 1988.

International seminars on spiritual and moral education, 1994.

Comparative education;

World conferences:

Presentation papers on the comparison between religious and secularist theories of education: the Islamic perspective Montreal, Canada, 1990. Prague, Czechoslovakia, 1993.

annual presentation of a paper on the religious concept of education Oxford UK 1993.

Philosophy of education world conference annual presentation of a paper on the religious concept of education Oxford UK 1993.

International conference on commonwealth literature commonwealth literature conference on its UK 1964 commonwealth literature conference to Brisbane Australia 1968.

International conference on English literature international association of the university professor of English 1971 international association of the university professor of English Los Angeles 1974.

International association of the university professors of English 1977

Aberdeen

York UK

Lausanne

International conference on Islam and Islamic culture and civilization: presentation of paper

First conference London, UK on Islamic civilization 1978.

সৈয়দ আলী আশরাফের বর্ণাঢ্য জীবনের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। সৈয়দ আলী আশরাফের এই মহৎ কর্মযজ্ঞ দেখলে মনে হয় তিনি শুধু মাত্র একজন ব্যক্তি নন। তিনি একটি ইতিহাস এবং তিনি একটি আন্দোলনের নাম। সৈয়দ আলী আশরাফ একটি বিপ্লবী চিন্তা। সৈয়দ আলী আশরাফ মানি প্রথাগত অসম্পন্ন সকল শিক্ষা ব্যবস্থার অবকাঠামো ভেঙ্গে দিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থা নতুনভাবে ঢেলে সাজিয়ে শিক্ষার ঐশী ও নববী ধারা সমুন্নত রাখার এক মহান বিপ্লবী বীর। সৈয়দ আলী আশরাফ মানি শিক্ষার মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ হারানো ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গৌরব ফিরিয়ে আনার এক অগ্রদায়ক। সৈয়দ আলী আশরাফ মানি মুসলিম উম্মার কল্যাণে আত্মত্যাগের অনুপম দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী। সৈয়দ আলী আশরাফ মানি শিক্ষার ইসলামী কারণের লক্ষ্যে স্থাবর ও আস্থাবর সকল সম্পত্তি দান করা ও আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য অর্জনের জন্য সর্বস্ব বিলীন করে দেয়া ইতিহাসে স্মরণীয় একজন মহান দানবীর। সৈয়দ আলী আশরাফ মানি শিক্ষাগগনের অসংখ্য উজ্জ্বল তারকা ও নক্ষেত্রদের মিলনমেলার আয়োজক।

সৈয়দ আলী আশরাফ, তার দর্শন ও কর্মে একজন সফল ব্যক্তি তাতে কোন সন্দেহ নেই। তাঁর সফলতার বিজয়কেতন মুসলিম বিশ্বের সর্বত্রে পতপত করে উড়ছে। তাঁর সফলতার জয়ধ্বনি মুসলিম বিশ্বের আকাশ-বাতাস মুখরিত করছে। তবে আনন্দের বিষয় হল, ব্যক্তি আলী আশরাফ সর্বমহলে অনেক বেশি অবহেলিত হলেও কিন্তু তাঁর মেধা, মনন ও মনিষা এবং তাঁর শিক্ষা দর্শন সর্বত্রে তথা সারা মুসলিম বিশ্বে সমাদৃত, প্রশংসিত ও বাস্তবায়িত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোনার তরী কবিতার সেই বিখ্যাত পঙতির মত। “ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই ছোট সে তরী, আমারি সোনার ধানে গিয়েছে ভরি”। সোনার তরী কবিতাটির মূল বক্তব্য হলো মানুষের মহান কীর্তি ইতিহাসের পাতায় থেকে যায় ও মহাকালের নথিতে লিপিবদ্ধ থাকে কিন্তু সেখানে ব্যক্তির কোন ঠাঁই হয় না। সে মহাকালের গর্ভে হারিয়ে যায়। সৈয়দ আলী আশরাফের শিক্ষা দর্শনে আজ মুসলিম বিশ্ব আলোকিত, অনেক অগ্রগামী এবং তাঁর মহান কীর্তিতে আজ মুসলিম বিশ্ব শিক্ষার ক্ষেত্রে সঠিক পথে প্রতিষ্ঠিত ও গৌরবান্বিত। কিন্তু ব্যক্তি আলী আশরাফের কোথাও কোন ঠাঁই হলো না। এমনকি তাঁর নিজ হাতে সাজানো জ্ঞানের বাগিচায় তার কোন ঠাঁই নেই। তাঁর কোন স্থান নেই। তাঁর সারা জীবনের শ্রমলব্ধ নিজ হাতে সাজানো রেখে যাওয়া সেই জ্ঞান বাগিচার করুণদশা দেখে কবি জীবনানন্দ দাশের কবিতার কিছু পংক্তি মনে পড়ছে।

“অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ-পৃথিবীতে আজ,

যারা অন্ধ সবচেয়ে বেশি আজ চোখে দেখে তারা;

যাদের হৃদয়ে কোনো প্রেম নেই—প্রীতি নেই—করুণার আলোড়ন নেই,

পৃথিবী অচল আজ তাদের সুপরামর্শ ছাড়া।

যাদের গভীর আস্থা আছে আজো মানুষের প্রতি

এখনো যাদের কাছে স্বাভাবিক ব’লে মনে হয়

মহৎ সত্য বা রীতি, কিংবা শিল্প অথবা সাধনা

শকুন ও শেয়ালের খাদ্য আজ তাদের হৃদয়”।

চিরকাল বেঁচে থাক সৈয়দ আলী আশরাফ এর চিন্তা ও শিক্ষা দর্শন। তাঁর শিক্ষা দর্শন চর্চায় ফিরে আসুক মুসলিম বিশ্বের হারানো ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সোনালী যুগ। আজকে সৈয়দ আলী আশরাফ এর এই জন্মদিনে তাঁর প্রতি রইল অসংখ্য শ্রদ্ধা, ভালবাসা ও কৃতজ্ঞতা। অবশেষে প্রভুর দরবারে ফরিয়াদ জানাই, জান্নাতি নূরে নূরান্নীত হোক তাঁর পরকালীন জীবন।

যেমনিভাবে তিনি তাঁর শিক্ষার আলো দিয়ে আলোকিত করেছেন মুসলিম ভূবন। আমিন

ইদ্রিস আলী,

প্রভাষক; তাহফিযুল কুরআনিল কারীম ফাজিল (স্নাতক) মাদ্রাসা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *