• Mon. Apr 22nd, 2024

Basic News24.com

আমরা সত্য প্রকাশে আপোষহীন

ইসির সংলাপে না গিয়ে কমিশনকে ‘সরে যাওয়ার’ পরামর্শ দিয়ে চিঠি

Bybasicnews

Nov 7, 2023

লোকসমাজ ডেস্ক॥ বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনায় যোগ না দিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে ‘খোলা চিঠি’ পাঠিয়েছে। এতে তফসিল ঘোষণা পিছিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার তাগিদ দিয়ে নির্বাচন কমিশনারদের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
শনিবার রাজধানীর তোপখানা রোডে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক সেই খোলা চিঠি পড়ে শোনান। পরে তা নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়।
এতে বলা হয়, ‘‘আমরা এই আলোচনা সভায় (সংলাপ) অংশগ্রহণ করার প্রয়োজন মনে করছি না। আমরা সুস্পষ্টভাবে মনে করি, সরকার প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধাত্মক অবস্থান থেকে বিএনপিসহ তাদের রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস’ চালিয়ে যে পরিস্থিতির তৈরি করেছে, তা কোনোভাবেই একটি নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের সহায়ক নয়। এ রকম অবস্থায় একতরফা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে চরম দায়িত্বহীন পদক্ষেপ।”
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির অগ্রগতিসহ সার্বিক বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিতে ৪৪টি নিবন্ধিত দলকে চিঠি দিয়ে আমন্ত্রণ জানায় ইসি।
সকালে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সংলাপে বসে আওয়ামী লীগসহ ১৩টি, যদিও এই পালায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল ২২টি দলকে।
বিকালেও আরও ২২টি দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এর মধ্যে তালিকায় ছিল বিএনপি, ওয়ার্কার্স পার্টিসহ আরও ২২ দলের নাম।
বিএনপির পক্ষ থেকে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আগেই জানিয়েছেন, তারা এই সংলাপে যাচ্ছেন না। এর আগে কমিশনের দুই দফা আমন্ত্রণও দলটি প্রত্যাখ্যান করে।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, নির্বাচন কমিশন আরেকটি ‘সাজানো নির্বাচন’ অনুষ্ঠানে তৎপর হয়েছে।
সিইসিকে সাইফুল হক লেখেন, ‘‘আপনারা একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, সরকার বা আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন নন। দেশের প্রবল বৈরী ও সংঘাত-সহিংস পরিস্থিতিতে আপনাদের এই অবস্থান সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানিয়ে দিতে পারেন যে, দেশে এখন অবাধ, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ নেই।”
তফসিল ঘোষণার তারিখ পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রয়োজনীয় ‘রাজনৈতিক সমঝোতা’ প্রতিষ্ঠার তাগিদও দিয়ে তিনি বলেন, “সরকার ও সরকারি দল যদি তারপরও জবরদস্তি করে আপনাদেরকে একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠানে নানাভাবে বাধ্য করতে চায়, সেক্ষেত্রে নৈতিক ও বিবেকের দায় নিয়ে কমিশনের দায়িত্ব থেকে আপনারা সরে দাঁড়াতে পারেন। কারণ, দেশ ও দেশের মানুষ কোনোভাবেই আর একটি ‘ব্যর্থ, অকার্য্কর ও তামাশার’ নির্বাচনের দায় নিতে পারবে না।”
বিরোধী দলকে আস্থায় না নিয়ে একতরফা তফসিল ঘোষণা দেশের নির্বাচনকেন্দ্রীক সংকটকে আরো ঘনীভূত করবে বলেও সতর্ক করা হয় চিঠিতে। বলা হয়, “এটি দেশকে ভয়ংকর বিপর্য্য় ও অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেবে। এই ধরনের একটা পরিস্থিতি তৈরির দায়দায়িত্ব আপনাদের উপরও বর্তাবে।”
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, গত ২৮ অক্টোবর বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো ডাকা সমাবেশে সরকার ‘পরিকল্পিত হামলা’ করেছে।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার ও মামলার ঘটায় নিন্দা জানিয়ে সাইফুল হক বলেন, “সরকার জনগণ ও বিরোধী দলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। এ রকম পরিস্থিতিতে আমরা বিরোধী রাজপথে আছি, থাকব।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *