মাগুরা সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে ৩য় বর্ষের অনার্স শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণকে কেন্দ্র করে এক মিশ্র পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ক্লাসে অনুপস্থিতিসংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলতে গিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ ও আর্থিক মানসিক চাপের সৃষ্টি হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ অনেক শিক্ষার্থীই মধ্যবিত্ত বা নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে লেখাপড়ার খরচ জোগাতে অনেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন চাকরি বা উপার্জনের সাথে যুক্ত থাকেন। ফলে শত ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তাঁদের পক্ষে প্রতিদিন নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকা সম্ভব হয়ে ওঠে না। তবে সমস্ত বাধা সত্ত্বেও তাঁরা সেমিস্টার ও বর্ষসেরা পরীক্ষাগুলোতে সশরীরে উপস্থিত থাকেন এবং নিষ্ঠার সাথে অংশ নেন।
অন্যদিকে, কলেজের নিয়ম-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে বিভাগের শিক্ষক জনাব মাজিদুল হক কম হাজিরা থাকা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ৫০০ টাকা জরিমানা ধার্য করেছেন বলে জানা গেছে। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, তাঁদের বাস্তব পরিস্থিতি ও আর্থিক সংকটের বিষয়টি বিবেচনা না করে এই অর্থ বাধ্যতামূলকভাবে আদায় করা হচ্ছে এবং টাকা পরিশোধ না করলে ফরম পূরণে জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

অনার্স ৩য় বর্ষের ফরম পূরণের সুযোগপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নামের তালিকা।
একদিকে জীবনসংগ্রামের নানা বাস্তবতা, অন্যদিকে অ্যাকাডেমিক নিয়মের কঠোরতা—দুইয়ের মাঝে পড়ে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। একাংশ শিক্ষার্থীর মতে, নিয়মানুবর্তিতা রক্ষা করা জরুরি হলেও শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে কর্তৃপক্ষের কিছুটা নমনীয় হওয়া প্রয়োজন। তাঁরা আশা করছেন, কলেজ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষক শিক্ষার্থীদের এই মানবিক সংকটটি উপলব্ধি করে আলোচনা ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি সহজ ও সামঞ্জস্যপূর্ণ সমাধানের পথে নিয়ে আসবেন।