মালিক!
সাহেব আলী, মাগুরা প্রতিনিধি: ঢাকার মেডিওনিক্স ইমাজিং লি: কোম্পানি থেকে একটি ডিজিটাল এক্সরে মেশিন কিনে অশেষ ভোগান্তিতে পড়েছেন মাগুরার একটি বেসরকারী হাসপাতালের মালিক। এই মেডিওনিক্স ইমাজিং লি: কোম্পানী বিদেশ থেকে বিভিন্ন আইটেমের মেডিকেল ইকুয়েপমেন্ট ( মেশিনারীজ) আমদানী করে থাকে। এই কোম্পানীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন মাগুরা জাহান প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনেষ্টিক এর সত্বাধিকারী ডা: মাসুদুল হক। তিনি জানান যে, ২০১৮ সালের জুলাই মাসের ৭ তারিখে তিনি এই কোম্পানী থেকে একটি ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন ক্রয় করেন। মেশিনটির মূল্য ১৩ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তিনি ৬ লাখ টাকা নগদ দেন এবং ৭ লাখ টাকা বাকি থাকে। পরবর্তীতে ক্রয়ের শর্ত মোতাবেক প্রতি মাসে ব্যাংক চেকের মাধ্যমে বকেয়া টাকা পরিশোধ করতে অগ্রীম চেক প্রদান করেন। অগ্রীম দেওয়া এইসব চেক কালেকশনে সামান্য দেরি হওয়ায় মেডিওনিক্স ইমাজিং লি: কোম্পানি গোপন কোড নং ব্যবহার করে মেশিনটি অচল করে রাখেন। সে কারণে জাহান প্রাইভেট হাসপাতালের মালিক ব্যবসায়িক ভাবে প্রচুর ক্ষতিগ্রস্থ হন। এরপর মেশিনটি বারবার নষ্ট হতে থাকে। আর সেটি রিপিয়ারিং করতে বিদেশ থেকে পার্টস আনতে হবে, এটা পাল্টাতে হবে, ওটা পাল্টাতে হবে ইত্যাদি অজুহাতে কখনো ৯৫ হাজার কখনো ১ লাখ, কখনো ১ লাখ ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। যেটি এক প্রকার ব্ল্যাকমেলিং করার সামিল। এই কোম্পানীর সেলস বিভাগের পরিচালক প্রকৌশলী পংকজ কুমার সারাদেশে বেসরকারী হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনেষ্টিক সেন্টারের মালিকদের সহজ কিস্তির প্রলোভন দেখিয়ে দুনম্বর মেশিন ডেলিভারি দিয়ে পরবর্তীতে মেশিন রিপিয়ারিং এর ফাঁদে ফেলে অথবা জিম্মি করে বেসরকারী হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনেষ্টিক সেন্টারের মালিকদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
মেডিওনিক্স ইমাজিং লি: কোম্পানি বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ উঠেছে যে, তারা ক্রেতাদের সাথে কন্ট্রাক্ট করছেন এক মেশিনের কিন্তু সাপ্লায় দিচ্ছেন নিন্মমানের মেশিন। ফলে দ্রুত সেগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে তারা নানা কৌশলে সরকারের ভ্যাট, ট্যাক্সও ফাঁকি দিচ্ছেন। ক্রেতাদের সাথে এ ধরনের প্রতারণা ও রিপিয়ারিং এর ফাঁদে ফেলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া এক ধরনের ইচ্ছাকৃত ফৌজদারী অপরাধ বলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এ ধরনের প্রতারণার বিরুদ্ধে কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে তারা ওই কোম্পানীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য মেডিওনিক্স ইমাজিং লি: কোম্পানির সেলস বিভাগের পরিচালক প্রকৌশলী পংকজ কুমারের সাথে মোবাইলে কথা বললে তিনি বলেন,‘ওনাকে মেশিন রিপিয়ার করতে বলেন’। এরপর তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরবর্তীতে তার হোয়াটসএ্যাপে ম্যাসেজ পাঠালেও তিনি কোন রিপ্লায় দেননি।
ভুক্তভোগি মাগুরা জাহান প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনেষ্টিক এর সত্বাধিকারী ডা: মাসুদুল হক মেডিওনিক্স ইমাজিং লি: কোম্পানি আমদানী-রপ্তানী লাইসেন্স বাতিল ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের আইনী পদক্ষেপ কামনা করেছেন।