মাগুরা ডিএনসি ঘিরে আছে অভিযোগ, নেই কোনো প্রতিকারআকরাম হোসেন ইকরাম মাগুরা থেকে /মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের (ডিএনসি) মাগুরা জেলা কার্যালয়। মাদক নির্মূলের বিষয়ে সোচ্চার থাকার কথা থাকলেও এখানকার অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ উঠছে। মাদক ব্যবসায়ীদের শেল্টার, কমিশন বানিজ্য এবং মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে থেকে অর্থ আদায়সহ নানান অনিয়ম-দূর্নীতি এখন প্রতিদিনের ঘটনায় পরিনত হয়েছে। জবাবদিহিতার অভাবে নেই কোনো প্রতিকার। সম্প্রতি একজনকে গ্রেফতার করতে যেয়ে নির্যাতন করে তাকে মেরে ফেলার অভিযোগ উঠলেও তা ধামাচাপায় পড়ে যায়। মোটা অংকের অর্থ দিয়ে বিষয়টি নেয়া হয় ভিন্ন খাতে বলে রয়েছে অভিযোগ।
অভিযোগ রয়েছে, উপপরিদর্শক সাহারা খাতুনের নেতৃত্বে চলছে মাগুরা ডিএনসির সিন্ডিকেট। মাগুরায় যোগদান করেই সে নিজস্ব বাহিনী গড়ে তোলেন। তবে অদৃশ্য কারনে চুপ রয়েছেন জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোঃ নাসির উদ্দীন। মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসোয়ারা এবং সাপ্তাহিক টাকা উত্তোলন করছেন সাহারা খাতুন। নারী কর্মকর্তা হওয়ায় অনেকেই এ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে সাহস করেন না। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সাহারা খাতুনের নির্দেশে চলছে মাগুরায় মাদক ব্যবসা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে চুয়াডাঙ্গা থেকে সাহারা খাতুনকে লক্ষ্মীপুরে বদলী করা হয়। প্রায় ৫/৬ মাস আগে অভিযোগের মধ্য দিয়ে তিনি মাগুরা জেলায় বদলী হয়ে আসেন। এদিকে, মাগুরায় জেলায় যোগদান করে বছর না ঘুরতেই গত রোববার মাগুরা মোহাম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামে আকুব্বর নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে অভিযানের সময় নির্যানের কারনে আকুব্বরের মৃত্যু হয়। ঘুমে থাকা আকুব্বরকে কোনো সুযোগ না দিয়েই হাতকড়া পরিয়ে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। পরবর্তীতে আকুব্বর মোল্যার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সাহারা খাতুনসহ মাদক অভিযানে থাকা কয়েকজনকে ডাকাত ভেবে গনধোলাই দেয়। এ সময় মাগুরা ডিএনসির কয়েকজন আহত হন। এদিকে, আকুব্বরের মৃত্যুর ঘটনা ধামাচাপা দিতে খুলনার অতিরিক্ত পরিচালক মো.আহসানুর রহমান মাগুরায় এসে ১৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি রফাদফা করেছেন বলে জানিয়েছে সূত্র।
মাগুরা ডিএনসির নাম প্রকাশে একজন কর্মকর্তা বলেন, সাহারা খাতুনের কারনে মাগুরা মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের নাম খারাপ হলেও কারও কোনো কর্নপাত নেই। মাস গেলে সাহারা খাতুন সকলের ভাগ বুঝিয়ে দেয় বলে তার বিরুদ্ধে কেউ কোনো ব্যবস্থা নিতে চান না। এমনকি খুলনার উর্ধতন কর্মকর্তাও ভিটামিনের কাছে চুপ মেরে গেছেন। তিনি আরো বলেন, অভিযান পরিচালনার সময় কারো কোনো পোষাক ছিলো না। আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য বেধরক মারপিট করেন আকুব্বরকে। আমি সরকারি একজন কর্মকর্তা না, একজন নাগরিক হিসেবে আকুব্বরের মৃত্যুর বিষয়টির তদন্ত চাই। আকুব্বরের পরিবারকে ভয়ভীতি দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ১৫ লক্ষ টাকা লেনদেন হয়েছে। খুলনার স্যার ৫ লক্ষ টাকা ভিটামিন হিসেবে নিয়েছেন বিধায় এমন ঘটনায় কোনো বড় ধরনের তদন্ত হলো না।
এ বিষয়ে সাহারা খাতুনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে এ বিষয়ে মাগুরা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ নাসির উদ্দিন কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি। পরবর্তীতে তিনি ডিসি অফিসে মিটিং আছে বলে অফিস ত্যাগ করেন। এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিপ্তরের বিভাগীয় অতিরিক্ত পরিচালক আহসানুর রহমান বলেন, আকুব্বরের মৃত্যু স্বাভাবিক কারনে হয়েছে। আমাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অভিযানে অনেকে পোষাক পড়া ছিলেন। তিনি আরো বলেন, কোনো অর্থনৈতিক লেনদেন হয়নি। এগুলো ভিত্তিহীন ঘটনা।