প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জরুরি নির্দেশনা এবং স্থানীয় প্রশাসনের নিরপেক্ষতার আশ্বাসে শেষ মুহূর্তে বড় ধরনের রাজনৈতিক সংঘাতের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা বিএনপি। লাঠিসোঁটা নিয়ে দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের পর অবশেষে উভয় পক্ষই তাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে।
স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরীর বিরুদ্ধে সার-বীজ আত্মসাৎ, সরকারি ধান ক্রয়ে সিন্ডিকেট, পছন্দের ব্যক্তিদের ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের প্রশ্রয় এবং মাদক কারবারিদের পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ তোলে দলেরই একাংশ। এসব অভিযোগের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়ন সমর্থিত নেতাকর্মীরা ধোয়াইল বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেন।
একই সময়ে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সরকারের ১৮০ দিনের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে পৃথক সমাবেশের ঘোষণা দেন নিতাই রায় চৌধুরী সমর্থিতরা। মাগুরা-২ আসনে দলীয় মনোনয়ন ও এলাকার রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই নেতার সমর্থকদের মধ্যে বেশ কিছু দিন ধরেই বিরোধ চলে আসছিল। পাল্টাপাল্টি এই কর্মসূচিকে ঘিরে উভয় পক্ষই শক্তি প্রদর্শনের প্রস্তুতি নেয় এবং লাঠিসোঁটা সংগ্রহ শুরু করলে পুরো মহম্মদপুর জুড়ে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শনিবার রাতে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে কর্মসূচি স্থগিতের নির্দেশ দেওয়া হলে নিতাই রায় চৌধুরীর সমর্থকরা সংবাদ সম্মেলন করে তাদের সভা স্থগিতের কথা জানায়। তবে রোববার সকালে রবিউল ইসলাম নয়নের সমর্থকরা নির্দেশ উপেক্ষা করে মিছিল নিয়ে উপজেলা সদরে জড়ো হন এবং বিক্ষোভ শুরু করেন।
খবর পেয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী আহমদ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ কর্মীদের শান্ত করেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বার্তা পাওয়ার পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। বিএনপির তোলা সিন্ডিকেট ও প্রশাসনিক অনিয়মের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।
জেলা প্রশাসনের এই ইতিবাচক আশ্বাসের ভিত্তিতে রবিউল ইসলাম নয়নের সমর্থকরাও শেষ পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করে। তবে দলের সাধারণ নেতাকর্মীরা জানান, বিদ্যমান সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান না হলে তারা পরবর্তীতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবেন।