মাগুরা কাটাখালী মাধ্যমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পেশাগত সনদপত্রে স্মারক নম্বর ছাড়াই নিয়োগের অভিযো।
ফারুক আহমেদ বার্তা সম্পাদক :
শুরুতেই জেনে নেওয়া যাক আলোচিত সেই প্রধান শিক্ষক মো: শাজাহান মৃধার প cরিচয়। তিনি ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার কাদিরদী গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। তাহার ব্যক্তিজীবন ও কর্মজীবন বেশ রহস্যময়। এখানে তাহার কর্মজীবন সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোকপাত করিব।
তিনি ১৯৮৭ ইং সালে এসএসসি ও ১৯৯০ সালে এইচএসসি পাস করেন। এরপর ব্র্যাক এনজিওতে কর্মজীবন শুরু করেন চাকুরী পাবার কিছুদিন পর নিজের এলাকায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এনজিওর চাকুরী ছেড়ে ১৯৯৬ ইং সালে, কাদিরদি দাখিল মাদ্রাসায় অফিস সহকারী (কেরানি) পদে যোগদান করেন, অতঃপর প্রাইভেট পরীক্ষার্থী হিসেবে ১৯৯৬ ইং সালে বিএ পাস করেন। এর পর ৬ মাস মেয়াদী কম্পিউটার প্রশিক্ষন কোর্স সম্পন্ন করেন। ০১/১০/২০০৩ ইং তারিখে উক্ত মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক (কম্পিউটার) পদে যোগদান করেন। ২০০২ সালে বিএড কোর্স সম্পন্ন করেন এবং ২০০৩ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রাইভেট পরীক্ষার্থী হিসেবে এমএ পাস করেন।
কাদিরদী মাদ্রাসা থেকে মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার হরে কৃষ্ণপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে ১৮/০১/২০১৫ ইং তারিখে যোগদান করেন।
অতঃপর ০৩/০৮/২০১৯ ইং তারিখে ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার মীরের কাপাষহাটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে যোগদান করেন। উক্ত প্রতিষ্ঠানে কিছুদিন চাকুরী করার পর এক সহকর্মীর স্ত্রীর সাথে পরকীয়ায় জড়ান। উক্ত নারীর সাথে তাহার প্রেমের রসায়ন বেশ মজে ছিল। ২০২০ সালে করোনা ছুটিকালীন সময়ে লাইলিকে নিয়ে মজনু পালিয়ে গিয়েছিল। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ে ব্যাপক আড়োলন হয়েছিল। বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী এবং এলাকার জনসাধারণ মানববন্ধন করে উক্ত প্রধান শিক্ষককে অপসারনের দাবী জানান। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাহার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাসহ ডিজি অফিসে অভিযাগ দায়ের করেন। অতপর বিদ্যালয়ের মানেজিং কমিটির রেজুলেশন মোতাবেক স্থায়ীভাবে বহিষ্কার/চাকুরিচুত হন। ২০২০ সালের অক্টোবর মাস থেকে উক্ত প্রতিষ্ঠান থেকে সকল প্রকার বেতনভাতাদি বন্ধ হয়ে যায়, চাকুরী ফিরে পেতে অনেক চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছিলেন।
এরপর উক্ত সমালোচিত প্রধান শিক্ষক জালিয়াতির মাধ্যমে মধুখালী উপজেলাধীন এক প্রতিষ্ঠানে (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) নিয়োগ প্রাপ্ত হন। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের তোপের মুখের উক্ত কলংকিত প্রধান শিক্ষক যোগদান করতে পারেন নাই। একবার ব্যর্থ হলেও তিনি চাকুরী ফিরে পাবার আশা ছাড়েননি। এবার তিনি সফল হলেন দুর্নীতির মাধ্যমে। কর্মস্থলের বিভাগ পরিবর্তন করে মাগুরা জেলার সদর উপজেলার কাটাখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২৬/০৭/২০২২ ইং তারিখে যোগদান করেন। প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী বহিস্কার আদেশ ম্যানেজিং কমিটি প্রত্যাহার করেননি। ফলে ২০২০ সালে অক্টোবর মাস থেকে আগট ২০২২ ইং সাল পর্যন্ত চাকুরীর অভিজ্ঞতা (প্রায় ২২ মাস) ছিল না। ফলে চাকুরীতে বিরতি থাকায় মীরের কাপাষহাটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে কর্তৃক ইসুকৃত অভিজ্ঞতা সনদপত্র, পেশাগত সনদপত্র, ছাড়পত্র, চাকুরী থকে অব্যাহতি পত্র এবং ব্যাংক প্রদত্ত নন ড্রয়াল প্রত্যায়ন পত্র জালিয়াতির মাধ্যমে করা হয়েছে। যাহা বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা- ২০২১ এর ১৮.১ ধারার সুস্পষ্ট লংঘন- যাহার ফলে প্রধান শিক্ষকের এমপিও বাতিলসহ সর্বশেষ কর্মরত প্রতিষ্ঠান কাটাখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাপ্ত সমুদয় বেতনভাতাদির অর্থ ফেরত প্রদান পূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কামনা করছি। যার ফলে স্বাধীন দেশ থেকে এরকম ন্যাক্কার জনক জালিয়াতি করার কেউ যেন দুঃসাহস না দেখায়।
১ম এপিসোড
মাগুরা জেলার সদর উপজেলাধীন কাটাখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতি ও অনিয়মের সংক্ষিপ্ত বিবরনী
১। পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক থাকাকালীন অবস্থায় সহকর্মীর স্ত্রীর সাথে পরকীয়াজনিত কারণ প্রমানিত হওয়ায় স্থায়ী বহিস্কার হয়।
২। ০১/১০/২০২০ ইং থেকে ২৬/০৭/২২ ইং পর্যন্ত বেতন ভাতাদি বন্ধ ছিল। এরফলে তাহার চাকুরীতে অভিজ্ঞতা বিরামহীন ছিল না। ফাইলে সংযুক্ত অভিজ্ঞতা সনদপত্র, পেশাগত, সনদপত্র, ছাড়পত্র ও উক্ত প্রতিষ্ঠান থেকে পদত্যাগ পত্র সম্পূর্ণ জালিয়াতির মাধ্যমে করা হয়েছে।
৩। তাহার দুর্নীতি সমুহ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০২১ এর ১৮.১ ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। যাহার শাস্তি এমপিও বাতিল/বেতন ভাতাদি স্থগিত হতে পারে।
৪। বর্তমান প্রতিষ্ঠানেও তিনি বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে যুক্ত আছেন। অতীত থেকে তিনি কোন শিক্ষা গ্রহন করতে পারেন নাই।
অতএব, মহোদয়ের সমিপে আকুল আবেদন এই যে, উক্ত বিষয় টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত পুর্বক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহনে আপনার মর্জি হয়।
সংযুক্তিঃ ১। অভিজ্ঞতা সনদ পত্র ২। পেশাগত সনদ পত্র ৩। ছাড় পত্র ৪। পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠান হতে অব্যাহতি পত্র ৫। ব্যংক বিবরনী ৬। ব্যাংক কর্তৃক নন ড্রয়াল প্রত্যায়ন পত্র ৭। জনবল কাঠামোর প্রয়োজনীয় এক পৃষ্ঠা ৮। আলোচিত প্রধান শিক্ষকের কর্মজীবনের সংক্ষিপ্ত বিবরনী
মীরের কাপাষহাটিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ই আই আই এনা১০৮৮০৮
ডাকঘরঃ মধুখালী, উপজেলাঃ মধুখালী, জেলাঃ ফরিদপুর। স্থাপিতঃ ১৯৭২ইং স্কুল কোডঃ ৫০৩০, থানা কোডঃ ২১৫, জেলা কোডঃ ২৬
স্মারক নং-
ছাড়পত্র
তারিখঃ 24/09/22
এই মর্মে ছাড়পত্র প্রদান করা যাচ্ছে যে, মোঃ শাহজাহান মৃধা, পিতাঃ মোঃ এজাহার মৃধা, মাতাঃ ছাহেরা বেগম, গ্রামঃ কাদিরদী, ডাকঘরঃ কাদিরদী, উপজেলাঃ বোয়ালমারী, জেলাঃ ফরিদপুর। তিনি অত্র মীরের কাপাষহাটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে বিগত ০৩/০৮/২০১৯ ইং তারিখ হতে ২৬/০৭/২০২২ইং তারিখ পর্যন্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার ইনডেক্স নম্বরঃ ২০১১৮৯০ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালন কালীন শৃংখলা পরিপন্থি কোন কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন না। তিনি কাটাখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাগুরা সদর, জেলাঃ মাগুরা এ প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হওয়ায় অত্র বিদ্যালয় হতে ২৬/০৭/২০২২ইং তারিখে তাকে ছাড়পত্র প্রদান করা হলো।
আমি তাঁর জীবনের সার্বিক সাফল্য কামনা করি।
সভাপতি ৬/০৪/২২
মীরের কাপাষহাটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়
মধুখালী, ফরিদপুর ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার
মধুখালী, ফরিদপুর।
মোঃ আশিকুর রহমান চৌধুরী
উপজেলা নির্বাহী অফিসার
মধুখালী, ফরিদপুর।
অভিজ্ঞতা সনদ পত্র
স্মারক নং-
তারিখঃ ২৬/০৯/২২
এই মর্মে অভিজ্ঞতা সনদ পত্র প্রদান করা যাচ্ছে যে, মোঃ শাহ্জাহান মৃধা, পিতাঃ মোঃ এজাহার মৃধা, মাতাঃ ছাহেরা বেগম, গ্রামঃ কাদিরদী, ডাকঘরঃ কাদিরদী, উপজেলাঃ বোয়ালমারী, জেলাঃ ফরিদপুর। তিনি অত্র মীরের কাপাষহাটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে বিগত ০৩/০৮/২০১৯ ইং তারিখ হতে ২৬/০৭/২০২২ইং তারিখ পর্যন্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার ইনডেক্স নম্বরঃ ২০১১৮৯০। তার বেতন কোডঃ ০৭। তিনি উচ্চতর যোগ্যতা সম্পন্ন, দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষক। তার চাকরির মোট অভিজ্ঞতা ১৮ বছর ১০ মাস।
আমি তাঁর জীবনের সার্বিক সাফল্য কামনা করি।
মীরের কাপাষহাটিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মধুখালী, ফরিদপুর ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মধুখালী, ফরিদপুর।
মোঃ আশিকুর রহমান চৌধুরী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মধুখালী, ফরিদপুর।
২য়,এপিসোড
বরাবর, সভাপতি, মোঃ আশিকুর রহমান চৌধুরী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীরের কাপাষহাটিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মধুখালী, ফরিদপুর ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার, মধুখালী, ফরিদপুর।
বিষয়ঃ চাকুরী হতে অব্যাহতি প্রসঙ্গে।
ডকেট নং ২৫৭২ 2106/22
মোঃ শাহজাহান মৃধা, পিতাঃ মোঃ এজাহার মৃধা, গ্রাম: কাদিরদী, প্রধান শিক্ষক হিসেবে আমার অন্য প্রতিষ্ঠানে ডাকঘর: কাদিরদী, উপজেলা: বোয়ালমারী, জেলা: ফরিদপুর। আমি অত্র বিদ্যালয়ে বিগত ০৩/০৮/২০১৯ইং তারিখ হতে অদ্য ২৬/০৭/২০২২ইং পর্যন্ত কর্মরত আছি। ০ এমন শিক্ষক পদে চাকুরী হওয়ায় আমি অদ্য ২৬/০৭/২০২২ইং তারিখ হতে চাকুরী হতে অব্যাহতি চাই।
অতএব, মহদয় সমীপে আকুল আবেদন আমাকে উল্লেখিত তারিখ হতে অব্যাহতি দিতে আপনার মর্জি হয়।
বিনীত নিবেদক (মো: শাহজাহান মৃধা) প্রধান শিক্ষক মীরের কাপাষহাটিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মধুখালী, ফরিদপুর।
৩য় এপিসোড
সোনালী ব্যাংক লিমিটেড Sonali Bank Limited মধুখালী উপজেলা কমপ্লেক্স শাখা, ফরিদপুর
নং-এমবিএল/মউক/প্রত্যয়ন/২৬২০ তারিখঃ ২৯/০৮/২০২২ই।
প্রত্যয়ন পত্র
এই মর্মে প্রত্যয়ন করা যাচ্ছে যে, মোঃ শাহজাহান মৃধা, পিতাঃ এজাহার মৃধা (সাবেক প্রধান শিক্ষক, মীরের কাপাষহাটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়), গ্রামঃ কাদিরদী, ডাকঃ কাদিরদী, উপজেলাঃ বোয়ালমারী, জেলাঃ ফরিদপুর অত্র শাখার একজন সঞ্চয়ী হিসাব গ্রাহক। অত্র শাখায় তাঁর সক্ষয়ী হিসাব নং-২০২৪৮০১০২৩৬০৩। অত্র শাখা হতে তিনি ২৪/০৭/২০২২ ইং তারিখ হতে অদ্যাবদি কোনো টাকা উত্তোলন করেননি। অত্র শাখার রাউটিং নাম্বার: ২০০২৯১০৬৪। আমরা তাঁর সার্বিক মঙ্গল কামনা করি।৷