March 10, 2026, 6:41 pm
শিরোনাম:
শালিখায় মাদ্রাসা সুপারের সাথে ডিবি পরিচয়ে প্রতারণা: ৫৫,৫০০ হাজার টাকা লুটে নিলো চক্র। ঝিকরগাছা ইউএনও কে উপেক্ষা করে দিনে বাদে রাত্রে ফসলি জমির বালি কাটার অভিযোগ মাগুরায় জামায়াত নেতার পিতার ইন্তেকাল ও জানাজা অনুষ্ঠিত ওষুধ কিনে খাবে নাকি মামলার তিন হাজার টাকা শোধ করবে? যশোর চৌগাছা বিশ্বাস ফিলিং স্টেশনের মালিকের পিতার ইন্তেকাল মাগুরা অডিটোরিয়ামে জামায়াত ইসলামের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল মাগুরা অডিটিরিয়ামে জামায়াত ইসলামের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল শালিখায় প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে জখমের শিকার ব্যবসায়ী হরষিত সাহা। যশোরে ফসলি জমির মাটি কেটে বালি উত্তোলনের অভিযোগ শালিখায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রীর সাথে সরকারি কর্মকর্তাদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত।
Notice:

মাগুরায় ৯৯ টি ইটভাটা অবৈধ তার মধ্য প্রশাসন ভেঙ্গে দিল মাত্র ৩টি

Reporter Name

মাগুরা প্রতিনিধি/ জেলায় অবৈধ ইটভাটার বিস্তার চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী ১০২টি ইটভাটার মধ্যে বৈধ মাত্র ৩টি, আর বাকি ৯৯টি চলছে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে। পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বছরের পর বছর আইন অমান্য করে ইট উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে এসব ভাটা।বৃহস্পতিবার বিশেষ অভিযানে মীরপাড়া, বাগবাড়ীয়া পাতুড়িয়া এবং মহম্মদপুরের একটি ভাটাসহ তিনটি অবৈধ ইটভাটা ভেঙে দেওয়া হয়।
এর আগে আরও একটি ভাটা ভাঙা হয়েছিল। ফলে বর্তমানে অবৈধ ভাটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৬টি। অভিযানে নেতৃত্ব দেন খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিবেশ অধিদপ্তরের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মমতাজ বেগম।
তিনি বলেন, “পর্যায়ক্রমে মাগুরার সব অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করা হবে। আজ তিনটি ভাটা ভাঙা হলো, বাকি গুলোও দ্রুত বন্ধ করা হবে।”
২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর জেলা প্রশাসকের জারিকৃত নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, লাইসেন্স ছাড়া কোনো ইটভাটা চলতে পারবে না। ইউএনও, এসি ল্যান্ড ও ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাদের অবৈধ ভাটা দেখলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন আইন ২০১৩ ও ২০১৯ সংশোধনী অনুযায়ী লাইসেন্স বাধ্যতামূলক হলেও মাঠ পর্যায়ে বাস্তবতা সম্পূর্ণ বিপরীত। দুর্বল নজরদারি ও আইনের শিথিল প্রয়োগের সুযোগে অবৈধ ভাটার সংখ্যা বরং বেড়েই চলেছে।
অবৈধ ভাটার ধোঁয়া ও ভাঙাচোরা চিমনি থেকে নির্গত PM–2.5 ও PM–10 কণা এলাকাজুড়ে বায়ুদূষণ বাড়িয়ে দিয়েছে। শিশু, বৃদ্ধ ও শ্বাসকষ্ট রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, ভাটার ট্রাক ও ট্রলি অতিরিক্ত ওজন নিয়ে চলায় রাস্তাঘাট নিয়মিত ভেঙে পড়ছে। কৃষিজমির মাটি কেটে ইট তৈরির কাঁচামাল নেওয়ায় ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে, অনেক এলাকা এক ফসলিতে পরিণত হয়েছে।
নবগঙ্গা ও চিত্রা নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাটার ছাই পড়ে নদী দখল ও জলাশয় ভরাটের ঘটনা প্রায় স্থায়ী সমস্যায় পরিণত হয়েছে।
এদিকে বৈধ তিন ভাটার মালিকরা বলছেন, তারা নিয়ম মেনে কর দিয়ে ব্যবসা চালালেও ৯৯টি অবৈধ ভাটা কম দামে ইট বিক্রি করে পুরো বাজার অস্থিতিশীল করে ফেলছে।পরিবেশ অধিদপ্তর মাগুরার সহকারী পরিচালক শোয়াইব মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, “অবৈধ ভাটা মাগুরার পরিবেশে ভয়াবহ বিপর্যয় তৈরি করছে। আমরা জেলা প্রশাসনকে সব ধরনের সহায়তা করছি।”সদর ইউএনও মো. হাসিবুল হাসান জানান, “অবৈধ ভাটার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে আমরা প্রস্তুত।”হকারী কমিশনার (ভূমি) মোছা. আসমা আক্তার বলেন, “নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এখনো বন্ধ না হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”উপপরিচালক (উপসচিব) ইমতিয়াজ হোসেন বলেন, “অবৈধ ভাটা বন্ধের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। মালিকরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবেন বলে আশা করি।”



Basic News24