মাগুরা বালিদিয়া গ্রামে অবসরপ্রাপ্ত নৌবাহিনী সদস্যর জমি দখলের অভিযো
ফারুক আহমেদ, মাগুরা : মাগুরা মহম্মদপুর উপজেলার বালিদিয়া ইউনিয়নের বালিদিয়া গ্রামের উত্তরপাড়া এলাকার নৌবাহিনী সদস্য শেখ রকিবুর রহমান (বাবু) (অব:) এবং তার বড় ভাই ব্যবসায়ী শেখ সোহেল রহমান (মুক্ত) এর জমি জবর দখলের অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার ২৭ এপ্রিল দুপুর ১২.৩০ টার সময় বালিদিয়া গ্রামের বালিদিয়া হাইস্কুল ও বালিদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে দেখা যায় বালিদিয়া পোস্ট অফিস সংলগ্ন জমি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে।
বালিদিয়া উত্তরপাড়া গ্রামের মোঃ হাফিজুর রহমানের পুত্র শেখ রাসেল জানান, সাবেক দাগ বসতবাড়ি ৫৬৬ এবং মাটি ফেলা হয়েছে সাবেক দাগ ৫৬৩ এবং মমরেজ খার স্ত্রী নবেলার ১০৮৩ দাগে ১৩ শতকের মধ্যে ৪ শতক জমি। ১৯৬২ সালের রেকর্ডে ২২৯৮ খতিয়ানে মইজদ্দিনের পুত্র তাছের ৫৬৩ দাগে ১২ শতকের মধ্যে ৬ শতক প্রাইমারি স্কুলে এবং ৬ শতক মাটি দেওয়া জায়গা। দলিল নং ১৫৪৮ গত ১৪ মে ১৯৯৪ সালে জমি ক্রয় করা হয়। তিনি আরও জানান, মহম্মদপুর থানার এএসআই আহাদ আলী আমার সাথে অসৌজন্যমূলক উগ্র আচরণ কথা বলেছে।
দলিল সহ যাবতীয় জমির কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায় ৫৬৪ দাগের ১০৮০ সাবেক হালদাগ আর ৫৬৪ দাগে রেজাউল ৫৬৩ দাগের মধ্যে ৪ শতক ঢুকেছে হাল ম্যাপে আর ৫৬৫ দাগআলা ঢুকেছে হাল ম্যাপে, ২ শতক মোট ৬ শতক জমি বিরোধীয় হচ্ছে। মূল মালিকের রেকর্ড ও পর্চা ঠিক আছে কিন্তু ম্যাপ অনুসারে ৫৬৩ দাগের মূল মালিকের ৬ শতক জমি হাল ম্যাপে নাই যে কারণে উক্ত ম্যাপ সংশোধনের জন্য মোকাম মহাম্মদপুর সহকারী জজ আদালত দেওয়ানী দেং ৩০৩/২৪ মামলা বর্তমানে বিচারাধীন আছে। উক্ত বিরোধীয় সম্পত্তি নিয়ে বাদী শেখ সোহেল রহমান বিবাদী শওকত হায়াত মামুন সহ দুইজনের বিরুদ্ধে মাগুরা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৪/ ১৪৫ ধারা মোতাবেক মামলা দায়ের করা হয়। উক্ত মামলায় বিজ্ঞ আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে গত ৬ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে মহাম্মদপুর পি ৫৮৮/২০২৪ মামলায় তৃতীয় পক্ষকে উক্ত নালিশি সম্পত্তিতে প্রবেশে বারিত করে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে উভয়পক্ষকে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ৬০ দিন কার্যকর থাকবে বলে আদেশ দিয়েছিলো। উক্ত মামলার রায়ের পরে উক্ত রায়কে অমান্য করে বিবাদী শওকত হায়াত মামুন এবং মোঃ তহিদুল শিকদার বেআইনিভাবে সোহেল রহমানের দখলীয় স্বত্ব থাকা জমিতে জোরপূর্বক মাটির ফেলে এবং বাঁশ বেদখল করে। আমরা চারজন সাংবাদিকরা সরজমিন প্রদর্শন করে এই প্রতিবেদন তৈরি করলাম যে ঘটনা স্থলের পারিপার্শ্বিক সকল অবস্থা বর্তমান উক্ত নালিশি সম্পত্তির সার্বিক পরিস্থিতি ভিডিও ও ছবি ধারণ করা হলো এবং আশেপাশের লোকজনের মতামত গ্রহণ করি। তাহাতে আমাদের নিকট প্রতীয়মান হয় যে নালিশি সম্পত্তি বাদী পক্ষের সবই ঠিক থাকাই বর্তমানে ম্যাপে কিছুটা ত্রুটি বিচ্যুতি হওয়ায় সেই সুযোগে বিবাদীরা জোরপূর্বক জমি দখলের পায়তারা করছে।
মহম্মদপুর থানায় শেখ সোহেল রহমান মাগুরা অভিযোগ দেয় গত ১০/০৫/২০২৫ তারিখে শেখ সোহেল রহমান (৪৭), পিতা: মৃত হাফিজুর রহমান, সাং- বালিদিয়া (উত্তরপাড়া), ইউপি: বালিদিয়া, থানা: মহম্মদপুর, জেলা: মাগুরা। বিবাদী মোঃ শওকত হায়াত মামুন (৫২), পিতা: মৃত মোকলেছুর রহমান, ২। আঞ্জুয়ারা বেগম (৬৫), স্বামী: মৃত মোকলেছুর রহমান, উভয় সাং: বালিদিয়া (উত্তরপাড়া), ইউপি: বালিদিয়া, থানা: মহম্মদপুর, জেলা: মাগুরাদ্বয়ের বিরুদ্ধে। আমি পেশায় একজন ব্যবসায়ী। বিবাদীদ্বয়ের সাথে বিগত অনুমান ৯ মাস যাবত জায়গা জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। নিম্নে তফসিল ভুক্ত জমির মালিক আমি ওয়ারিস সূত্রে। উক্ত জমি আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘ ৪৫ বছর যাবত ভোগ দখল করে আসছি। উক্ত জমিতে আমার বসতবাড়ী, দোকান ও পোষ্ট অফিস রয়েছে। মাগুরা জেলার মহম্মদপুর থানাধীন বালিদিয়া মৌজার সাবেক ৫৬৩ যার হাল ১০৮৩ নং দাগের ০৪ শতক জমির মালিক আমি ওয়ারিশ সূত্রে এবং একই দাগের ১ শতক জমির মালিক আঃ ওয়াদুদ খান ওয়ারিস সূত্রে। কিন্তু বিবাদীগন যোগসাজশে আমার উক্ত ০৩ শতক জমি ভুল ম্যাপ অংকন করে পাশে থাকা তাদের সাবেক ৫৬৪ যার হাল ১০৮০ নং দাগের মধ্যে নিয়ে গেছে এবং ভুল রের্কড করে সাবেক ৫৬৫ যার হাল ১০৮২ নং দাগের মধ্যে ০২ শতক জমি নিয়ে গেছে। বিষয়টা আমরা জানতে পেরে বিবাদীদ্বয়ের সাথে উক্ত জমির বিষয়ে কথা বললে তারা আমাদের জমির রেকর্ড ও ম্যাপ ঠিক করে দেবে মর্মে অঙ্গীকার করে। কিন্তু গত অনুমান ৯ মাস আগে বিবাদী আমাদের উপরোক্ত ০৩ শতক জমি অন্যত্র বিক্রি করে দেয়। তখন থেকেই বিবাদীদ্বয় আমাদের জমি অবৈধ্য ভাবে দখল করার জন্য বিভিন্ন ধরনের পায়তারা করতে থাকে। তখন আমি বাধ্য হয়ে বিজ্ঞ আদালতে ১৪৪/১৪৫ ধারার আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত মঞ্জুর করেন এবং উক্ত জমির উপরে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। উক্ত জমিতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চলামান থাকা সত্ত্বেও বিবাদীদ্বয় আমার জমিতে থাকা গর্ত বালু দিয়ে ভরাট করে ছাপড়া ঘর নির্মান করে। তখন আমরা বিবাদীদ্বয়কে আমাদের জমিতে কাজ করতে নিষেধ করলে বিবাদীদ্বয় আমাদেরকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদান করে।
হামিদা খাতুন গত ২২/০৪/২০২৬ খ্রিঃ তারিখে মাগুরার মহম্মদপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মোছাঃ হামিদা খাতুন (৬৫), স্বামী: মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ খান, সাং- বালিদিয়া, ইউপি- বালিদিয়া, থানা- মহম্মদপুর, জেলা: মাগুরা। বিবাদী রেজাউল শিকদার (৬০), পিতা- মৃত নবি শিকদার, সাং- বালিদিয়া, ইউপি- বালিদিয়া, থানা- মহম্মদপুর, জেলা- মাগুরা এর বিরুদ্ধে লিখিত ভাবে অভিযোগ করে যে, আমি পেশায় গৃহিনী। আমার ছেলে মেয়েরা চাকরীর সুবাদে ঢাকায় থাকে। বাড়ীতে আমি ও আমার স্বামী থাকি। নিম্নে তফসিল ভুক্ত জমির মালিক আমি ওয়ারিস সূত্রে। উক্ত জমিতে আমার বাশের ঝাঁড় রয়েছে। বিবাদী দীর্ঘদিন যাবত আমার জমি অবৈধ ভাবে দখল করার পায়তারা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিবাদী গত ২০/০৪/২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা অনুমান ০৭.৩০ টার সময় আমার জমিতে থাকা বাঁশ কেটে ফেলে। অদ্য ইং ২২/০৪/২০২৬ তারিখ সকাল অনুমান ০৭ টার সময় থেকে আমার জমিতে মাটি ফেলে ভরাট করতে থাকে। সংবাদ পেয়ে আমি জমিতে উপস্থিত হয়ে বাধা প্রদান করলে বিবাদী আমাকে খুন জখমের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদান করে। বর্তমানেও বিবাদী আমার জমিতে মাটি ফেলে ভরাট করতেছে। আমি পুনরায় বাধা দিতে গেলে উক্ত স্থানে শান্তি ভঙ্গের সম্ভাবনা রয়েছে।
তফসিল মাগুরা জেলার মহম্মদপুর থানাধীন বালিদিয়া মৌজার জমির খতিয়ান ১৬৮, দাগ ১০৮৩, জমির পরিমান ০১ শতক।
বালিদিয়া শাখা ডাকঘর পোস্ট মাস্টার মোঃ শাহিদুর রহমান জানান, জোরপূর্বক আমাদের জমি দখল করে নিয়ে প্রতিনিয়ত পোস্ট অফিস এখান থেকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া সহ নানারকম জীবন নাশের হুমকি ধামকি দিচ্ছে রেজাউল শিকদার ও তার পুত্র তহিদুল ইসলাম।
হামিদা খাতুন জানান, আমি মহম্মদপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি কিন্তু দারোগা কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আজকে সকালে থানায় গেলে উক্ত অভিযোগের দারোগা এএসআই আহাদ আলী আমাকে বলেছে মাগুরা আদালতে মামলা করে দেন। রেজাউল শিকদার ও তার ছেলে তহিদুল ইসলাম আমার জমির ৩০০ শত বাঁশ কেটে ফেলে মাটির নিচে ঢেকে দিয়েছে যার বাজার মূল্য প্রায় ৩০ হাজার টাকা এবং বড় একটা কদম গাছ কেটে ফেলেছে। আমি আইনের মাধ্যমে আমার জমিতে বালি ফেলা নিষেধ করা জমি বেদখল হওয়া, বাঁশ ও কদম গাছের আর্থিক ক্ষতিপূরণ চাই এবং আমার দায় দায়েদিদের জমি বেদখল হওয়ার সঠিক বিচার চাই।
জমির এই ঘটনার বিষয়ে বালিদিয়া গ্রামের মোঃ গোলাম নবী শিকদারের পুত্র মোঃ রেজাউল শিকদার এবং রেজাউলের পুত্র তহিদুল ইসলাম জানান, গত ২০ জুন ২০২৪ তারিখে দলিল নং ১৮৭৬/২০২৪ সাফ কবলা দলিলে সাবেক আর এস ৯২ নং মৌজা বালিদিয়া ১২ শতক ডাঙ্গার জমি ১৫ লাখ টাকায় ক্রয় করছি শওকত হায়াত মামুনের কাছে থেকে। তাই আমাদের জমিতে মাটি দিচ্ছি এবং পোস্ট অফিস সহ সমস্ত দোকান ঘর এখান থেকে উঠিয়ে নিয়ে অন্য জায়গার সরকারি খাস জমিতে চলে যাক। তহিদুল ইসলাম আরও বলেন দারোগা ডাইরেক্ট বলে দিয়েছে আমাকে আপনার জমি আপনি দখলে থাকবেন নিশ্চিন্তে কোন সমস্যা নেই।
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য শেখ রকিবুর রহমান বাবু জানান, আমার ৩ শতক জমি, হামিদা খাতুনের ১ শতক জমি ও আমার মেজো ভাই শেখ সোহেল রহমান মুক্তার মোট ৭ শতক জমি জোরপূর্বক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে রেজাউল শিকদার ও তার পুত্র তহিদুল ইসলাম দখল করার জন্য জীবন নাশের হুমকি ধামকি ও জোর করে বালি ফেলে কাজ করে যাচ্ছে। আর আমার চাচা পোস্ট মাস্টারের অফিস ও আমাদের দোকান ঘর সরাতে বলছে। মুলত শওকত হায়াত মামুন ২০২৪ সালে রেজাউল শিকদারের দোকানের পিছনে পূর্ব-পশ্চিম ডোবা খানা পুকুর ক্রয় করেছে কিন্তু তারা এখন জোরপূর্বক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আমাদের দোকান ঘর ও পোস্ট অফিসের জমি দখল করতে বিভিন্ন রকমের অপরাধ মূলক কাজ করে যাচ্ছে।
মহম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোহাম্মাদ আশরাফুজ্জামান জানান, হামিদা খাতুন থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে ওখানে এএসআই আহাদ আলীকে পাঠানো হয়ে ছিলো। আর এটা জমি সংক্রান্ত বিষয় আদালতে মামলা চলমান এখানে পুলিশের করার কিছু নেই। তবে মারামারি ঘটার জন্য হুমকি ধামকি দিলে বা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নিবে।